গণতন্ত্রের নামে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন
সূচিপত্র
গণতন্ত্রের নামে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন
ডাকসু নির্বাচনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে, তবে ট্রাইবাল প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ট্রাইবাল প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে হতাশার দিকও।
ট্রাইবাল সম্প্রদায় থেকে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সংগঠনের ছাত্র ও মহিলা সংগঠন কিংবা তাদের পরিবারের সদস্য। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা জাতীয় মনোযোগ ও মিডিয়া ফোকাস ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদী ন্যারেটিভ তুলে ধরছেন—এটি গভীরভাবে হতাশাজনক। তারা যখন গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের ‘আদিবাসী’ পরিচয়ে উপস্থাপন করে জীবনভর আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন, তখন দীর্ঘদিনের পরিশ্রম পণ্ডশ্রম মনে হয়।
এর বেশিরভাগই জুলাই আন্দোলনের বিরোধী ছিল। হাইকোর্টের রায়ে উপজাতীয় কোটা পাঁচ শতাংশ থেকে এক শতাংশে নামলে তারা সেটি পুনঃস্থাপনের দাবিতে প্রবল আন্দোলন করেছে। টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য ও মধুর ক্যান্টিনে তারা মিছিল, সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। অথচ হাসিনা পতনের পর রাতারাতি তারা ভোল পাল্টে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা সেজে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা করে নেয়—যা ভীষণ হতাশার।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর বাবা ইউপিডিএফ-এর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ও আঞ্চলিক কমান্ডার। এ ধরনের পরিবারের সদস্যকে ছাত্রদলের মনোনয়ন দেওয়া হতাশাজনক। পাহাড়ে ছাত্রদলের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো থাকলেও তারা চাইলে নিজেদের সংগঠন বা বিএনপি পরিবারের কোনো যোগ্য ট্রাইবাল সদস্যকে মনোনয়ন দিতে পারত।
ছাত্রশিবির থেকেও মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত-শিবিরবিরোধী নানা বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ শিবির থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পরও তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত আদিবাসী অধিকারের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। আরও বিস্ময়ের বিষয়—এই প্যানেলের ভিপি ও জিএস দু’জনেই পার্বত্য বাঙালি, যারা শিবিরে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত পার্বত্য বাঙালি সংগঠন ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদে’র নেতৃত্ব দিয়েছেন। সচেতন হয়েও তারা কিভাবে এমন প্রার্থীকে মনোনীত করলেন, তা ভাবলে হতাশা বাড়ে। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, নির্বাচনের পর এই প্রার্থী আবার দলবিরোধী বয়ান দেবেন। অথচ সাদিক কাইয়ুম বা ফরহাদ চাইলে শিবিরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শাখা (যদি থাকে) বা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বাইরে কোনো সাধারণ উপজাতীয় প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারতেন। শুধু নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বড় দুই দলের এভাবে আদর্শিক বিচ্যুতি প্রদর্শন করা অত্যন্ত হতাশার।
বাম ছাত্র সংগঠনগুলো বরাবরই পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের ঘাঁটি ও শেল্টার হাউস হিসেবে কাজ করছে। তারা প্রকাশ্যে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবির পৃষ্ঠপোষক। ফলে তাদের থেকে ভিন্নধর্মী প্রত্যাশা করা বৃথা। তবে তাদের প্যানেলে থাকা এক নারী নেত্রী পূর্বে উপজাতীয় কোটা পাঁচ শতাংশ পুনর্বহালের আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি কতটা যৌক্তিক ও নৈতিক—তা প্রশ্নবিদ্ধ।
ট্রাইবাল প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের। অথচ প্রকৃত পিছিয়ে থাকা মুরং, চাক, খিয়াং, পাঙ্খো, লুসাই, সাঁওতাল, হাজং, খাসিয়া, রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের অনুপস্থিতি হতাশাজনক। এটি পাহাড় ও সমতলের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য ও অনগ্রসরতার বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
লেখক: মেহেদি হাসান পলাশ
সহকারী সম্পাদক, দৈনিক ইনকিলাব
.jpeg)

