কচুপাতার জলে ইসলামি রাজনীতি: মামুনুল হকের সামনে চ্যালেঞ্জ
মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের আজকের সাক্ষাৎকারটি নানা কারণে বেশ ইন্টারেস্টিং। শুধু এই কারণে নয় যে তিনি প্রথম আলোকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, বরং আমার মনে হয়েছে তিনি সময়ের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন—যেখান থেকে তার আর পিছলে পড়া চলবে না।
এত দিনে বোঝা গেল কেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ টুপি মাথায় দিয়ে বলেছিলেন, “বিএনপি কখনো কোরআনবিরোধী আইন করে না।” এর অর্থ, তারা মামুনুল হক সাহেবের মতো ইসলামপন্থি নেতাদের নিজেদের দলে ভেড়াতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু মামুন সাহেব কী করবেন, সেটা ভাবার আগে মনে রাখা দরকার—তার দল একসময় বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। অবাক লাগে, তারা এখনও দেড় যুগ আগের চিন্তাধারাতেই আটকে আছেন। তখন যা বলতেন, এখনও তা অতিক্রম করতে পারেননি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ছাড়ার সময় তাদের বক্তব্য ছিল—মাওলানারা শুধু বিএনপির ওপর নির্ভরশীল নন, তাদের আরও অপশন আছে। কিন্তু এখন সেই অপশন—অর্থাৎ আওয়ামী লীগ—নেই। ফলে বড় অপশন হিসেবে থেকে যাচ্ছে বিএনপিই।
বিএনপির সঙ্গে যাওয়া মামুন সাহেবের দরকার। যেমন একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাওয়া জরুরি ছিল, যেমনটা দরকার ছিল ফয়জুল্লাহ সাহেবদেরও। কিন্তু ফয়জুল্লাহ সাহেব সময়মতো বের হয়ে আসতে পারেননি, যেভাবে মামুন সাহেবরা পেরেছিলেন। ফয়জুল্লাহ সাহেব বলতেন—“যত সমালোচনাই হোক, একবার ইসলামের পক্ষে বড় কোনো ইস্যু তুলতে পারলে মানুষ আগের সবকিছু ভুলে যাবে।” কিন্তু সময় তাকে সেই সুযোগ দেয়নি।
এই কথাই বলছি—আজ যতই বিএনপির সমালোচনা করা হোক না কেন, মামুন সাহেব যদি সত্যিই বিএনপি জোটে যোগ দেন, সমালোচনার সব বিষ ধীরে ধীরে মিষ্টি হয়ে আসবে। এমপি হওয়ার সুযোগ তিনি নিশ্চিতই পাবেন, যা তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রাপ্যও বটে। তার গায়ের কাদা তখন তীর হয়ে বিদ্বেষীদের জবাব দেবে। এটি মাওলানাদের জন্যও এক বিরাট জয় হবে। শাইখুল হাদিস আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন।
কিন্তু এর সঙ্গে আরেকটি বড় ক্ষতি ঘটবে—দেশ একটি শক্তিশালী বিরোধীশক্তি হারাবে। ইসলামপ্রিয় মানুষ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়বে, মাঠে আর প্রতিরোধী শক্তি থাকবে না। তখন মামুন সাহেব আর দেশের কারও বিরুদ্ধে হুংকার দেওয়ার স্পেসও পাবেন না। সবচেয়ে বড় কথা, ইসলামি ভাবধারার রাজনীতি কচুপাতার জলের মতোই থাকবে—কখনও এ দলে, কখনও ও দলে। কোথাও সে স্থায়ী ও উজ্জ্বল ঠাঁই পাবে না। সেখানেই হবে তার সবচেয়ে বড় হার।