পার্বত্য চট্টগ্রাম ২০ আগস্ট ২০২৫ ⏱ ৪ মিনিট পড়া

চট্টগ্রামকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদী পরিকল্পনা ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা

প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
চট্টগ্রামকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদী পরিকল্পনা ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা


ইউনুস সরকারের পক্ষে ছিলো জেনজি সম্প্রদায়।

জেনজি মানে ছাত্র ও তরুণরা।
যাদের জন্ম আনুমানিক ১৯৯৭–২০১২ সালের মধ্যে।

Gen Z সম্পর্কে কথিত আছে, তারা নাকি গোল্ডফিস মেমোরি।
মানে গোল্ডফিসের মেমোরি কম, তাদেরও নাকি মেমোরি কম।
সত্য মিথ্যা জানি না, তবে জেনজির “attention span” বা মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কম, এটা পরীক্ষিত।
এর কারণে তারা রিলস বা শর্ট দ্বারা আকৃষ্ট হয়।

মনোযোগ ধরে রাখার সময় কম হলে গবেষণা করে জটিল জিনিস বের করা কঠিন হয়।
যেমন– আন্তর্জাতিক রাজনীতি হচ্ছে মহিলাদের চুলের বেনীর মতো।
আপনি যদি আগার প্যাচকেই সব মনে করেন,
তবে ভুল করবেন। আপনাকে প্যাচের পেছনে প্যাচ খুলে ধৈর্যসহকারে ভেতরে পৌঁছাতে হবে।
তখন আপনি গোড়ায় পৌঁছাতে পারবেন।

কিন্তু ভেতরে পৌঁছানোর জন্য আপনার ধৈর্য প্রয়োজন।
কিন্তু আপনার মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা যদি কম হয়,
তবে আপনি ভেতরেই পৌঁছাতে পারবেন না।

কোনো একটি দেশে আগ্রাসন চালানোর প্রথম ধাপ হচ্ছে,
দেশটিকে কৌশলগত বিষয়গুলো দখল করা।
বিদেশী সাম্রাজ্যবাদীরা এটা সবার আগে করে।

সমস্যা হচ্ছে—আমাদের নতুন প্রজন্ম কৌশলগত (Strategic) বিষয় বুঝতে চায় না।
কারণ– কৌশলগত (Strategic) বিষয় বুঝতে মাথা একটু লম্বা সময় খাটাতে হয়,
সেই খাটানোর ধৈর্য তাদের নেই।

যেমন, ধরুন– তাদেরকে বোঝানো হয়েছে,
নিউমুরিং টার্মিনালকে বিদেশীদের দিলে দেশ উন্নত হয়ে যাবে।
অনেক দেশেই দেয়, সুতরাং বাংলাদেশের বন্দর দিলে কোনো সমস্যাই হবে না।

কিন্তু নিউমুরিং টার্মিনাল বাংলাদেশের কৌশলগত (Strategic) স্থাপনা।
যাকে জিম্মি করে বিদেশীরা বাংলাদেশকে বড় ফাঁদে ফেলতে পারে।
অনেক দেশ অনেক কিছু করতে পারে, কিন্তু কৌশলগত স্থাপনা দিতে চায় না।

এরপর ধরুন, তাদের বোঝানো হলো–
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে মসজিদ না বানালে কী সমস্যা?
দেশে কী মসজিদের অভাব পড়ছে?

আসলে এই মসজিদ বানানো হবে পাল্টা কৌশলগত বিষয়।
এবং ঐ এলাকায় মসজিদ বানাতে বাধা দেওয়া হিন্দুদের কৌশলগত বিষয়।
এটা বুঝতে হলে, চিন্তার সীমানা বাড়াতে হবে,
সময় ও ধৈর্য নিয়ে বুঝতে হবে।

আপনি যদি ভারতীয় ও বাংলাদেশী উগ্রহিন্দুদের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে ফলো করেন,
তবে দেখবেন—উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের বহুদিনের পরিকল্পনা হচ্ছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলাকে দখল করা।
এই পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তারা বহুদিন ধরে চট্টগ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সারা দেশ থেকে এনে জমা করেছে।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন এলাকায় তারা জনসংখ্যাকে একত্র করে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় তারা অস্ত্র জমা করেছে।

৫ই আগস্টের পর চট্টগ্রামেই তারা মহাসম্মেলনের আয়োজন করে এবং সেখানে তারা গেরুয়া পতাকা উড়ায়।
বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে তারা একজন মুসলিম আইনজীবিকে অসংখ্য মানুষের মধ্যে প্রকাশ্যে জবাই করে।
এই আচরণগুলো যদি আপনি জোড়া দেন, তবে বুঝবেন চট্টগ্রাম নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের আলাদা প্রস্তুতি আছে।
এবং প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যকে লক্ষ্য করে।

উগ্রহিন্দুরা বলতো—চট্টগ্রামকে টার্গেট করার উদ্দেশ্য তারা বাংলাদেশের বন্দর এলাকাগুলো দখলে নিতে চায়।
তারা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী দখল করবে।

এক্ষেত্রে তারা কিন্তু পর্যায়ক্রমে এগোচ্ছে।
যেমন—ডিপিওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং টার্মিনাল দেওয়া হচ্ছে।
আর ডিপিওয়ার্ল্ডের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ভারতীয় হিন্দু।

শুধু তাই নয়, চীনের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারত–ইসরাইল–মিডল ইস্ট মিলে যে আইমেক করিডোর বানাচ্ছে, সেটা নিয়ে গবেষণা করলে বুঝবেন—কেন চট্টগ্রাম বন্দর তাদের দরকার।

আবার চট্টগ্রাম জেলার অন্যতম শীর্ষ উঁচু পাহাড় সীতাকুণ্ড একটি কৌশলগত স্থান।
এই পাহাড়কে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া খুব ভয়ঙ্কর কথা।
এই পাহাড়টিকে শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য ছেড়ে দিলে কিংবা তাদের স্বীকৃতি দিলে তাদের চট্টগ্রাম দখল করার বৃহৎ পরিকল্পনার একটি বড় অংশ সফল হয়ে যায়।

এজন্য দেখবেন—বাংলাদেশে যাদের বুদ্ধিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়,
তারা কিন্তু বাংলাদেশের বিপদাপন্ন স্থানগুলোকে কখনই সন্দেহভাজনদের হাতে ছেড়ে দেন নাই।
যেমন, ধরুন জিয়াউর রহমান। তিনি কিন্তু পাহাড়কে উপজাতিদের জন্য ছেড়ে দেন নাই।
বরং বাঙালীদের থাকার জন্য জায়গা করে দিয়েছিলেন।
বাঙালীরা যেন পাহাড়ে ভালোভাবে থাকতে পারে এজন্য রেশনেরও ব্যবস্থা করে দেন।

আজকে যদি শুধু উপজাতিরা পাহাড়ে থাকতো, তবে কবে পাহাড় দখল হয়ে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো।
কিন্তু অর্ধেক বাঙালী দিয়ে ব্যালেন্স করার ফলে পাহাড় এখনও দখল হয়নি।
এটাই কৌশলগত পদক্ষেপ।

অর্থাৎ কোনো বিশেষ স্থান যখন কোনো একটি পক্ষ দখলে নিতে চায়,
তখন সেখানে অন্যপক্ষেরও একটা স্থান তৈরি করা হচ্ছে কৌশলগত পদক্ষেপ।

এখানে ধর্মীয় উদারমনার আবেগ কিংবা সংখ্যালঘু প্রেমের কোনো দাম নেই।
আবেগ দিয়ে দুনিয়া চলে না।
কৌশলগত স্থান সন্দেহভাজনদের হাতে একা ছেড়ে দেওয়া কখনই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।


শেয়ার করুন
Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn
QR কোড স্ক্যান করে পড়ুন
বিভাগ: পার্বত্য চট্টগ্রাম © ২০২৬ পর্যবেক্ষণ

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

একই বিভাগের অন্যান্য লেখা

চন্দ্রনাথ পাহাড় ইস্যু: রাষ্ট্রীয় নীতির আড়ালে কার স্বার্থ পূরণ হচ্ছে?
পার্বত্য চট্টগ্রাম

চন্দ্রনাথ পাহাড় ইস্যু: রাষ্ট্রীয় নীতির আড়ালে কার স্বার্থ পূরণ হচ্ছে?

??ন্দ্রনাথ পাহাড় ও রাষ্ট্রের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত চন্দ্রনাথ পাহাড়কে ঘিরে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিছক কোনো অসাম্প্রদায়িক প্রশাসনিক…

পর্যবেক্ষণ ২৮ আগস্ট ২০২৫
গণতন্ত্রের নামে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন
পার্বত্য চট্টগ্রাম

গণতন্ত্রের নামে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন

??াকসু নির্বাচনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে, তবে ট্রাইবাল প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ট্রাইবাল প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ইতিবাচক…

পর্যবেক্ষণ ২১ আগস্ট ২০২৫
পর্যটন বনাম সম্প্রসারণবাদ: চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সংকট
পার্বত্য চট্টগ্রাম

পর্যটন বনাম সম্প্রসারণবাদ: চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সংকট

??িল্লির আজমির শরীফ, অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দির, ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স বাসিলিকা, কিয়োটোতে অবস্থিত জাপানের কিয়োমিজু-দেরা মন্দির— এসব…

পর্যবেক্ষণ ২০ আগস্ট ২০২৫
↑