অর্জনের মুহূর্তেই ভাঙন: কেন হোঁচট খায় জামাত
সূচিপত্র
অর্জনের মুহূর্তেই ভাঙন: কেন হোঁচট খায় জামাত
মাসুদ ভাই, আমার একটি সন্দেহ আছে। আপনারা ভালো খেলতে পারবেন, কিন্তু গোল করতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে দ্বিধা আছে। জামাত সবসময়ই ভালো খেলোয়াড়ের মতো মাঠে নামলেও, গোল করতে পারে না। সারা মাঠ ভালো খেলে গোলপোস্টের সামনে গিয়ে গড়বড় করে ফেলে। ডি-বক্সে ঢুকে গোলপোস্টের বাইরে শট মারে, অথবা কী করতে হবে না বুঝে প্রতিপক্ষের পায়ে বল তুলে দেয়। ফলাফল—প্রতিপক্ষ গোল করে কাপ নিয়ে চলে যায়, আর জামাত শুধু তাকিয়ে দেখে। জামাত সম্পর্কে আমার এই সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের মুসলমানদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এ দাবি যদি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে উপস্থাপন করা হতো, হয়তো তিনি সন্তুষ্ট হতেন। কিন্তু জামাত গিয়ে এ বিষয়টি তুললো চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে। অথচ এ ধরনের চিন্তা চীনের জন্য দুঃস্বপ্ন। পরে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করা হলেও ক্ষতি কতটা সামলানো গেছে বলা কঠিন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু ব্যতিক্রমী ইভেন্টের মাধ্যমে নতুনভাবে নিজেদের পরিচিত করাচ্ছিল এবং ডাকসু নির্বাচনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করছিল। কিন্তু হঠাৎ শাহবাগে “গোলাম আজমের বাংলা” স্লোগান দেওয়া ও টিএসসিতে নিজামী-মুজাহিদের ছবি টাঙানোর মাধ্যমে তারা নিজেদের এক বছরের অর্জন নিজেরাই ধ্বংস করেছে। ডাকসুর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এমন আত্মঘাতী ভুল কেউ করায়নি, করেছে তারাই। ওই যে বললাম— গোলপোস্টের সামনে গিয়ে গড়বড় করে ফেলে।
একটি গণতান্ত্রিক দল হয়েও জুলাই অভ্যুত্থানের পর অনির্বাচিত সরকারের কাছে একগাদা দাবি-দাওয়া নিয়ে বসে পড়লো জামাত। কখনো ডিসেম্বর, কখনো ফেব্রুয়ারি, কখনো এপ্রিল-মে, কখনো ২৬ তারিখ, কখনো ২৮ তারিখ— এভাবে বারবার নির্বাচন সংক্রান্ত বক্তব্য পাল্টেছে। এমনকি “ইউনুস সাহেবের জীবদ্দশায় নির্বাচন হবে না” ধরনের মন্তব্যও এসেছে তাদের সমর্থিত বক্তাদের মুখে। এখন সরকার ও বিএনপি যখন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে একমত, জামাত সেটা অস্বীকার করতেও পারছে না। এর বিপরীতে বিএনপি শুরু থেকে একটিই সুনির্দিষ্ট দাবি করেছে— যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন। সেই দাবির কাছাকাছি পৌঁছাতেও সক্ষম হয়েছে তারা। লক্ষ্য পরিষ্কার থাকলে জয় সহজ হয়।
৫ আগস্ট ২০২৪ সেনাপ্রধানের মুখে জামাত আমিরের নাম বারবার উচ্চারিত হওয়া এবং তার পাশে অবস্থান করার কারণে গুঞ্জন শুরু হয়— তিনি নাকি ছাত্রজীবনে শিবির করতেন। এরপরই তাকে অপসারণের দাবি ওঠে। একইভাবে ইউনুস সাহেব যখন ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে অনড় থাকলেন, তখন তাকে নিয়ে আবার নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হলো। জাতীয় সরকার গঠনের বয়ান সামনে আনা হলো।
“ইসলাম গ্রহণের আগে হযরত ওমর (রা.) ছিলেন জঘন্য মানুষ ও পশু” কিংবা “সংস্কারের বিরোধিতা মানেই কুরআনের বিরোধিতা”—এ ধরনের উগ্র মন্তব্য শুধু আপনাকে নয়, জামাতকেও বিতর্কিত করেছে।
মাসুদ ভাই, আপনি শিক্ষিত, সচেতন, পড়াশোনা করা এবং মাঠ থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ। তাই আপনার কথাবার্তায় আরও দায়িত্বশীলতা ও পরিমিতি থাকা জরুরি। ভুল শব্দচয়ন বা অস্পষ্ট অবস্থানই আপনার অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
লেখক: মেহেদি হাসান পলাশ
সহকারী সম্পাদক, দৈনিক ইনকিলাব