পার্বত্য চট্টগ্রাম
⏱ ৩ মিনিট পড়া
বাণিজ্যিক ইপিজেডের নামে পরিবেশ নষ্ট করলেও দেশের মানুষের জীবিকায় আঘাত করতে মরিয়া কথিত পরিবেশবাদীরা
প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
সূচিপত্র
বাণিজ্যিক ইপিজেডের নামে পরিবেশ নষ্ট করলেও দেশের মানুষের জীবিকায় আঘাত করতে মরিয়া কথিত পরিবেশবাদীরা
পার্বত্য এলাকায় শত শত সবুজ পাহাড়-টিলা পুড়ছে জুমের আগুনে।
আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর টিলাভূমির সবুজ বনবনানি। আগুনে বন-বাদাড়ের সঙ্গে সঙ্গে জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছরই বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত মার্চ-এপ্রিল জুড়ে আগুনে পুড়িয়ে পাহাড়গুলো জুমচাষের জন্য প্রস্তুত করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জুমিয়া পরিবারগুলো। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে প্রায় ২২ হাজার হেক্টর টিলাভূমি জুম চাষের জন্য পোড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় আগুনে ফলদ-বনজ বাগান, ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়াসহ প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। গত ১০ বছরে বান্দরবানে জুমের আগুনে পুড়ে মারা গেছে অন্তত ১৫ জন। পুড়ে গেছে কয়েকশ ঘরবাড়ি। খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. ফরিদ মিয়া বলেন, জুমের আগুনে শুধু বনই পুড়ে ছাই হচ্ছে না; অণুজীব, কীটপতঙ্গ, বন্য জীবজন্তু সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যখন জঙ্গলে আগুন লাগানো হয়, তখন অনেক উপকারী মাইক্রোঅর্গানিজমস মারা যায়। যে মাইক্রোঅর্গানিজমসগুলো নিউট্রিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশনের জন্য দরকারি। মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে জুম চাষের জন্য পাহাড়গুলো অগ্নিদগ্ধ করায় মাটি শুকিয়ে ইট হয়ে যায়। এতে ছোট বড় পাহাড় টিলাগুলোতে ফাটল সৃষ্টি হয়। ফাটলে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ আকারে পাহাড়ধস শুরু হয়। পার্বত্য এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ বলেন, প্রতি বছরই বর্ষায় পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক হারে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ধসের কারণে পাহাড়ি ছড়া, ঝরনা, খাল, নদীগুলো ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ের মাটির ওপরের স্তর যাকে টপসয়েল বা উর্বর মাটি বলা হয়, ধসের সঙ্গে এ টপসয়েলও স্থানান্তরিত হয়ে যায়। এতে পাহাড়গুলো অনুর্বর হয়ে পড়ছে। অথচ এক ইঞ্চি টপসয়েল তৈরি হতে প্রায় ১০০ বছর লাগে। (তথ্যসূত্র: কমেন্ট)
• পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় পুড়িয়ে জুম চাষ করে। কিন্তু এটা নিয়ে পরিবেশবাদীদের তেমন উচ্চবাচ্চ নেই। তখন তারা বলে না, তাদের কর্ম বন্ধ করা হোক। কারণ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের আদিবাসী বানিয়ে তাদের দিয়ে পাহাড়কে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা আছে। সুতরাং তাদের ডিস্ট্রার্ব করা যাবে না।
• চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি হাতির আবাসস্থল ধ্বংস করে ইপিজেড বানিয়েছে। এতে হাতি মারাত্মাক ক্ষিপ্ত হয়। মাঝে মাঝে হাতি আক্রমণ করে মানুষ মেরে ফেলে। হাতির আবাসস্থল বাচানোর জন্য কোন উদ্যোগ দেখেছেন ? দেখবেন না। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ানরা হচ্ছে বিদেশী। বিদেশীরা এ অঞ্চলে যা খুশি তাই করবে, যত সমস্যা দেশী মানুষের জন্য। এজন্য বিভিন্ন কু-যুক্তি ও আজগুবি কথা দেখবেন। যেমন রিজওয়ানা বলেছে- মানুষ ও পাগলা হাতি কিভাবে সহ-অবস্থান করবে, তা আমরা নিশ্চিত করবো।
• মৌলভীবাজারের মার্কিন কোম্পানি শেভরন গ্যাস খোজার নামে পরিবেশ দূষণ করে। এর আগে শেভরনের আগের কোম্পানি বড় ধরনের বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে বিশাল পরিবেশ নষ্ট করেছে। এটা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্চ দেখেন ? দেখবেন না। কারণ শেভরনের মত কোম্পানি পরিবেশবাদীদের অর্থায়ন করে টিকিয়ে রেখেছে।
সোজা ভাষায়-
বাংলাদেশে জমি, পরিবেশ বিদেশীরা ব্যবহার করলে ধ্বংস করলে কোন সমস্যা নেই।
সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ ব্যবহার করলে।
তখন বাংলাদেশের মানুষের কর্ম বন্ধ করে দেয়া হবে।
মানুষকে মাইগ্রেট করে অন্যত্র চলে যেতে বলা হবে।
মানুষ না খেয়ে থাকলেও তাদের দিকে তাকাবে না।
এই হচ্ছে তাদের হিপোক্রেসি।
লেখক : নয়ন চ্যাটার্জী

.jpeg)

