ইসলাম ও মুসলিম ১২ আগস্ট ২০২৫ ⏱ ৬ মিনিট পড়া

সাধারণ মুসলিম পরিবার অজান্তেই ইসলামফোবিয়ায় আক্রান্ত

প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
সাধারণ মুসলিম পরিবার অজান্তেই ইসলামফোবিয়ায় আক্রান্ত



মসজিদে বিয়ে করাতো সুন্নাত । স্পিকারে চিকনি চামেলী গান বাজাবেন কিন্ত কিংবা বিট ওয়ালা গান বাজাতে পারেন, হরে রাম হরে কৃ.... কিন্ত ভালো বিট আছে। এগুলোও বাজাবেন। কি বললেন, মসজিদে খেজুর দিবেন না ? ও আচ্ছা, হাতে হাতে দিবেন। বুঝতে পারছি।

 আমার ফলো কিংবা লাইক এ ধরণের পেইজে দেওয়া নাই তারপরেও টাইমলাইনে এই সব আজেবাজে জিনিস চলে আসে। শুধু একজন হুজুরের কবুল বলানো ছাড়া আর কোন কিছু দেখেই বলা সম্ভব না যে এগুলো কোন মুসলমানের বিবাহ।

.
১ কোটি ১১ লক্ষ টাকার দেনমোহরের একটা বিবাহ টাকা থাকলে হতেই পারে। এটা আমার নিকটে আশ্চর্য ঠেকে নাই। আর সমাজে কিছু লোক থাকবেই যাদেরকে যতই বুঝান যে বিয়ে থেকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বাদ দিতে হবে, তারা তা দিবে না। তাদের এ ব্যাপারে বিশেষ গোঁ আছে। এটা অনেক ধার্মিক ব্যক্তিদেরও দেখেছি তারা তাদের মেয়েদের বিয়েতে এরকম হিন্দুয়ানী কালচার চর্চা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
.
এমনো দেখেছি যে মেয়ের বিয়ে হয় সে নিজেও জানে এগুলো ইসলামি সংস্কৃতিতে জায়েজ নাই। কিন্ত তারপরেও হিন্দু পুরান সংস্কৃতি আর বলিউডের নতুন সংস্কৃতির জোয়ারে গা না ভাসালে তার নিজের কাছে নিজেকে ছোট ছোট মনে হয়। তাই এগুলো থাকবেই। এগুলো পার হয়েই এত দূর আসছি।
.
কিন্ত আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, এই ভিডিওটার রিয়েকশনের সংখ্যা দেখেন। প্রায় তিন হাজার দুশর কাছাকাছি যার অধিকাংশই লাভ রিয়েক্ট। এবং সেটাও মাত্র এক ঘন্টায় !
.
যারা লাভ রিয়েক্ট দিয়েছে , এদের ব্যাপারে হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিউওর থাকেন তারা এই হিন্দু কালচারের সংস্কৃতি মুসলিম কালচারে গ্রহণ করাটাকে ১০০ তে ১০০ স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে। এমনকি একজন মুসলিম হিসেবে বিয়ের মত এক পবিত্র আয়োজনে পৌত্তলিক সংস্কৃতি যে সমস্যা হতে পারে , এটা নিয়েও তার কোন মাথা ব্যাথা নাই।



.
যারা লাইক দিল তাদের হয়তবা আফসোস এরকম রমরমা বাদ্যময় অনুষ্ঠানের ছেলে মেয়ের মিক্স গ্যাদারিং এ থাকতে না পারার যে আফসোস , সেই আফসোস থেকেই হয়তবা লাইক দেওয়া। হয়তবা তার বিয়েটাও এরকম হলে ভালো হত এরকম চিন্তা থেকেও হয়তবা লাইক দিয়ে ফেলছে। হয়তবা এখনই স্বপ্ন বানিয়ে নিয়েছে আমার মেয়ের বিয়েটাও এরকম ধুম ধাম করে দিব।
.
আর যারা আশ্চর্য হওয়ার রিয়েক্ট দিল , তারা মনে হয় কাবিন নামার অঙ্কের পরিমাণ দেখেই আশ্চর্য হয়েছে।
.
এই বিয়েগুলো যে জংলি বিয়ে তা বোঝানোর দায়িত্ব আমাদের আলেম সমাজের, আমাদের , আমাদের সকলের। কিন্ত আমরা দশকের পর দশক ধরে এব্যাপারে ফেইল মারছি। মুখে হিন্দুত্ববাদীকে উড়িয়ে দেই ওদিকে পৌত্তলিক সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছি বিয়ের মত পবিত্র এক আয়োজনে। এই দোষ শুধুমাত্র এই জেনারেশনের উপর চাপিয়ে দেয়া মস্ত ভুল হবে। কেননা, বাপ চাচা, মামা , খালাদের বিয়ের খোঁজ নেন দেখবেন কারো বিয়েই ঐ কবুল বলা ছাড়া আর কিছুই ইসলাম মোতাবেক হয় নাই। বিয়ের দিন দেবড় হয়ে যায় বাচ্চা খোকা এজন্য নিজ ভাবি , আর পাড়া পরশী ভাবিরা চলে আসে সেই বাচ্চাটাকে গোসল করানোর জন্য।
.
বিয়ের কনেটা হয়ে যায় আদরের ন্যাওটা। তার গালে হলুদ দেওয়ার জন্য চাচাতো, মামাতো, খালাত সব ভাইয়ের লাইন দাঁড়িয়ে যায়। জানি না কার মনে কি থাকে ! ওদিকে খালু , ফুপা তাদের উপর যেন বাধ্যগত করা হয় হলুদ দেওয়ার বিষয়টাকে। এখন আবার অনেকে একটু বিষয়টাকে মেয়েদের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। যাতে বুঝা যায় যাক, আমাদের মেয়েদের একটু হলেও লজ্জা জন্মাচ্ছে। এখন তারা শয়তানি করলেও তা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। অবশ্য তারা যে হারে ছবি তোলে তা আর নিজেদের মধ্যে থাকে কই। পুরুষ তাদের মধ্যে না থেকেও তারা কি করেছে তা সবই জেনে যায় ইনস্টাগ্রাম আদ ফেইসবুকের মাধ্যমে।
.
আর গ্রামের চাচাতো ভাই বোনদের গান ছাড়া কি চলে ? পাশে মসজিদ থাকুক, কবর থাকুক কিচ্ছু যায় আসে না। একদিনের জন্যই তো শয়তানি। বিয়ে তো আর প্রত্যেকদিন হয় না। একদিনই হয়। তাই একদিনের জন্য ইবলীস হলে সমস্যার কি আছে ? দাঁড়িওয়ালা যৌবন ফুরানো দাদা নানারা দাঁড়িয়ে যায় তার নাতির বয়সী যৌবনে পা দিয়েছে কিংবা দিবে তাদের নাচ দেখার জন্য। এই সুযোগ তো আর মিস করা যায় না। সব দিন তো আর নাচবে না। আজকেই নাচবে , তাই এই জিনিস মিআ করি কিভাবে !
.
আর ফটোগ্রাফি ছাড়া তো কনেই বিয়েতে বসবে না। তার বান্ধবী, তার খালাতো বোনদের বিয়ের ছবির যে গ্ল্যামার সে বহন করে চলেছে গত কয়েকটা বছর ধরে তার প্রায় সবটুকুই তো ঐ ফটোগ্রাফির মাধ্যমে পাওয়া। সংসারের তো কিছু বাকি নাই। সেগুলোতে শুধু ঝগড়া ঝাটি, আর নালিশ বালিশ। খালাতো বোন আজকে রাগ হয়ে চলে আসে তো কালকে আবার খালা ফেরত পাঠায়। ওগুলো তো আমার দরকার নাই। আমার দরকার খালাতো বোনের বিয়ের ছবিগুলো যেভাবে তোলা হয়েছিল ঠিক সেভাবে আমার বিয়ের ছবিও তোলা হোক। এগুলোই না স্মৃতি। ডিভোর্স হয়ে গেলেও এগুলো স্মৃতি হিসেবেই থাকবে। তার ফটোগ্রাফার ছাড়া বিয়ে নট পসিবল।
.



ফটোগ্রাফার তো খুব খুশি। আমার প্রোপাজাল হল, অমুক হিন্দি ছবির ঐ বিয়ের ড্যান্সটা আপনারা ফলো করেন। ওটা করলে কিছু এক্সেপশন হবে। সবাই তো ঐ ঐ মুভির গানই ফলো করবে। আপনারা একটু ভিন্নতা আনবেন। দেখেন, ছবি ভিডিওতে ভালো আসতে হলে কিন্ত আপনাদের একটু ড্যান্স প্রাক্টিস করতে হবে। আচ্ছা, বিয়েটা কোথায় হবে আপনাদের ? আচ্ছা, অমুক মসজিদে। মসজিদে পর্যাপ্ত লাইটিং আছে নাকি আমি এক্সট্রা লাইট নিয়ে যাব ? কি বললেন, একবার ঘুরে আসব মসজিদ থেকে ? ওকে তাইট। মসজিদের সামনে আপনি থাকবেন সাদা শেরওয়ানি পরে আর আপু লাল ল্যাহেঙ্গা পরে একটা হাত ধরে ল্যাহেঙ্গা ফুলিয়ে একটা ঘোর লাগাবে, যা মানাবে না !
.
মসজিদে বিয়ে করাতো সুন্নাত । স্পিকারে চিকনি চামেলী গান বাজাবেন কিন্ত কিংবা বিট ওয়ালা গান বাজাতে পারেন, হরে রাম হরে কৃ.... কিন্ত ভালো বিট আছে। এগুলোও বাজাবেন। কি বললেন, মসজিদে খেজুর দিবেন না ? ও আচ্ছা, হাতে হাতে দিবেন। বুঝতে পারছি।
.
আমি এর আগে একটা পোস্ট দিলাম ইসলামোফোবিয়া নিয়ে আপনারা অনেকেই রিয়েক্ট দিয়েছেন। কিন্ত সমাজেত বাস্তবতা বুঝেন আমরা কোন গর্তে পড়ে আছি। মুসলিমের বিবাহ সংস্কৃতি পৌত্তলিক সংস্কৃতিতে কবে যে রূপ নিয়েছে তা হয়তবা আমাদের নিজেদেরও খোঁজ নেই। এই সমাজে ইসলামোফোবিয়ার চাষ হয়েছে। যার মন দিল সবকিছু এই পৌত্রলিক সংস্কৃতিকে সাধারণ এবং উত্তম হিসেবে গ্রজণ করে নিয়েছে তাকে আপনি ইসলামের স্বভাবজাত বিশুদ্ধ সংস্কৃতির আহবান জানান, দেখবেন আপনাকে বিয়েতে আসতে মানা করে দিবে। এগুলো ইসলামোফোবিয়া যদি না হয় তাহলে কোনগুলো ইসলামোফোবিয়া ?

লেখক: Saowabullah Haque
শেয়ার করুন
Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn
QR কোড স্ক্যান করে পড়ুন
বিভাগ: ইসলাম ও মুসলিম © ২০২৬ পর্যবেক্ষণ

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

একই বিভাগের অন্যান্য লেখা

লিবারেল মুখোশের আড়ালে জামায়াত: কেন ভয়টা থেকেই যায়
ইসলাম ও মুসলিম

লিবারেল মুখোশের আড়ালে জামায়াত: কেন ভয়টা থেকেই যায়

??ামায়াতকে আমি ভয় পাই—এই কথাটা কখনও ভয়ে বলি না। ভয়টা হলো, জামায়াত যত ক্ষমতাবান হবে, তত বেশি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এবং এই…

পর্যবেক্ষণ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
যে সাফাই জামায়াতকে বাঁচায়, কিন্তু ইসলাহকে মেরে ফেলে
ইসলাম ও মুসলিম

যে সাফাই জামায়াতকে বাঁচায়, কিন্তু ইসলাহকে মেরে ফেলে

??ই মুহূর্তে জামায়াতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ভেতর থেকে গড়ে ওঠা কিংবা বাইরে থেকে যাওয়া একদল প্রজ্ঞাবান, ন্যায়নিষ্ঠ ও আদর্শে অবিচল উলামা…

পর্যবেক্ষণ ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
কৌশলের নামে গণতন্ত্রের ফাঁদে ইসলামপন্থীরা
ইসলাম ও মুসলিম

কৌশলের নামে গণতন্ত্রের ফাঁদে ইসলামপন্থীরা

??ুয়াড়িদের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত আছে: “The house always wins।” শেষ পর্যন্ত ক্যাসিনোই (জুয়াঘর) জিতবে। কিন্তু এই প্রচলন এবং আরও অনেক…

পর্যবেক্ষণ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
↑