রাজনীতি
⏱ ৪ মিনিট পড়া
পাথর উত্তলন আসলেই কী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর?
প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
ইসলাম ধর্ম আর পশ্চিমা ধর্মের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য আছে।
পার্থক্যটা হলো- ইসলাম ধর্মে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বা পরিবেশের যখন তুলনা আসে,তখন মানুষকে আগে প্রাধান্য দেয়া হয়।কিন্তু পশ্চিমা ধর্মে- মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বা পরিবেশের তুলনা আসলে,প্রাণী বা পরিবেশকে আগে প্রাধান্য দেয়া হয়।যেমন- কুকুর মানুষকে কামড় দেয়, প্রাণঘাতি জলা*তঙ্ক তৈরী করে।তাহলে আপনি কাকে প্রাধান্য দিবেন ?পশ্চিমা ধর্মে বলা হবে- মানুষ মরলে মরুক, কুকুরকে রাখতে হবে।তাই বেওয়ারিশ কুকুর মা*রা যাবে না।তেমনি-মানুষ জীবন নির্বাহ করতে পরিবেশকে ব্যবহার করবে।তবে অপচয় করবে না। এটা ইসলাম ধর্মের কথা।কিন্তু পশ্চিমা ধর্মের কথা হইলো- আগে পরিবেশ, মানুষ মরলে মরুক।ইসলাম ধর্মে কোন মানুষ অপরাধ করলে, ঐ অপরাধী কেন অ*পরাধ করলো,তার কারণ আগে খোজার নির্দেশ।যেমন- একবার এক লোক চুরি করলো।শাস্তি হিসেবে হাত কা*টতে হবে।কিন্তু খলিফা নির্দেশ করলেন, ঐ ব্যক্তি কেন চুরি করলো, সেটা আগে খুজে বের করো।দেখা গেলো- ঐ লোক কয়েকদিন ধরে না খাওয়া।খলিফা নির্দেশ দিলেন- ঐ লোকের হাত কা*টা যাবে না। বরং ঐ লোকের ঘরে খাবার পৌছে দাও।সম্প্রতি, সিলেটের পাথর নিয়ে অনেক খরব দেখছি।সিলেটে নাকি পাথর লুটপাট হয়েছে।পাথর তোলা বন্ধ করতে, শ্রমিকদের নৌকায় আক্র*মণ করছে তরুণ পর্যটকরা।আচ্ছা ! হঠাৎ করে পাথর লুটপাট হলো কেন ?কেন এত সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হলো ??কারণ কী ??আসলে বাংলাদেশে আমরা যে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ব্রীজ, ফ্লাইওভার বানাই,এগুলো বানাতে পাথরের প্রয়োজন হয়।এই পাথরের বড় অংশ আসে সিলেট থেকে।আর সিলেটে পাথর আসে ভারতের মেঘালয় থেকে ভেসে।সিলেটে পাথর উত্তোলন হয়, আবার মেঘালয়ের পাহাড় থেকে পাথর ভেসে এসেসেই গর্ত পূরণ করে দেয়। এটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস।আদিকাল থেকে এমন হয়ে আসছে।তবে কেউ যদি পাথর না তুলে, তবে পাথর জমা হতে হতে,নদী পথ বন্ধ করে দেয়, তখন পাহাড়ি ঢল আসলে, উপচে পরে বন্যা হয়।অর্থাৎ পাথর দেখতে সুন্দর, তবে সেই পাথর উত্তোলন না করলেও বিপদ।যাই হোক, এই পাথর উত্তোলনের সাথে ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত।তাদের বউ, বাচ্চা, বাবা-মায়ের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা জড়িত।গত এক যুগ ধরে পরিবেশবাদ ধর্মের লোকের কথা শুনে আওয়ামী সরকারপাথর উত্তোলন করতে দিতো না, এতে ৩০ লক্ষ মানুষ রুটি-রুজি হারিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছিলো। অপরদিকে, প্রয়োজনী পাথরগুলো তখন ভারত থেকে আমদানি করা হতো,এতে ভারত লাভবান হতো।এ সরকারের আমলে পাথর উত্তোলনের সাথে জড়িত শ্রমিকরা আন্দোলন করে পাথর উত্তোলন শুরু করে দেয়। তারা পাথর উত্তোলন হয় বিশাল এলাকা জুড়ে। এর মধ্যে কিছু কিছু পর্যটন স্পটও পরে যায়। পর্যটন স্পটগুলো রক্ষা করেও অন্যান্য স্পট থেকে পাথর উত্তোলন করা যেতো, এটা সতর্ক করে দেয়া যায়।কিন্তু পাথর উত্তোলনকে ‘পাথর লুট’, ‘পরিবেশের ক্ষতি’ আখ্যায়িত করেআবার পাথর উত্তোলন বন্ধ করা কিংবা শ্রমিকদের উপর হামলা করার মোটেও ঠিক হয়নি।কারণ পাথর দর্শণে চোখের প্রশান্তির থেকে ঐ লোকের পেটের প্রশান্তি আগে।আপনার পেটে খাবার আছে বলেই পর্যটনের প্রয়োজন, কিন্তু ঐ লোকের তো পেটে খাবারই নেই,সে কী পর্যটনের গুরুত্ব বুঝবে ? তার পেটে আগে খাবার দিন।আসলে একটা মানুষের পকেটে যখন টাকা না থাকে, তখন তার মাথা খারাপ হয়ে যায়।তার সন্তানের ক্ষুধা, বাবা-মায়ের চিকিৎসা করতে না পারলে ঐ মানুষ বেচে থাকার থেকে মরে যাওয়া শান্তি মনে করে।যে বা যারা পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের গালা*গালি করছেন, তাদের ইট-পাথর নিক্ষেপ করছেন,গত ১ যুগ এইসব শ্রমিক কিভাবে জীবন কাটিয়েছে, এ বিষয়ে কোন খোজ খবর নিয়েছিলেন কী ?তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন কী ?করেন নি। কিন্তু যেই তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য পাথর উত্তোলন করলো, অমনি তাদেরকে পাথর নিক্ষেপ করলেন ।এটাই হচ্ছে পশ্চিমা ধর্ম। আপনি মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়েছেন ঠিক,নিজেকে মুসলমান দাবী করছেন,কিন্তু ইসলাম ধর্ম আপনার মধ্যে প্রবেশ করেনি, করেছে পশ্চিমা ধর্ম।যার কারণে মানুষের দাম আপনাদের কাছে নাই, আছে পাথরের দাম।মানুষ মরলে মরুক, পাথর বেচে থাকুক, সেটাই আপনাদের কথা।ধিক এ প্রজন্ম ধিক।
লেখক : নয়ন চ্যাটার্জী
