মুসলিম বিশ্ব ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ⏱ ৩ মিনিট পড়া

পাকিস্তান ও আরব জোট কার স্বার্থে

প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
পাকিস্তান ও আরব জোট কার স্বার্থে


পাকিস্তান ও সৌদি আরবের জোট মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া-জোটই। অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে পারে, আর সেই যুদ্ধকে বৈধতার লেবেল দিতে এই জোট কাজ করবে। কারণ আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধে নেমে কখনই সমর্থন পাবে না; বরং মুসলিম বিশ্বের শাসকরা—even যদি জনগণের চাপে পড়ে—আমেরিকাকে দোষারোপ করে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করবে।

আমেরিকাও ভালো করে জানে: আফগানিস্তান যদি স্থিতিশীল হয়ে ওঠে, তাহলে শামের (মধ্যপ্রাচ্যের) অঞ্চলে সে আর আগ্রাসন চালাতে পারবে না। ইতিমধ্যে তালেবানদের হাতে আমেরিকার ভারী অস্ত্র চলে আসায় তার একটি অংশ হামাসের হাতে গিয়ে পড়েছে। সুতরাং যদিও আফগানিস্তান সরাসরি ফিলিস্তিন বা অন্য অঞ্চলের জন্য নিজেদের ভূমি ব্যবহার করে অভিযান চালাতে নাও পারে, পরোক্ষভাবে আফগান ভূমি থেকে অস্ত্র ও জনবল মুভ করবে—আর সেই ধরনের মুভমেন্ট ইতোমধ্যেই হচ্ছে।

অন্যদিকে আরব শাসক-পরিবারদের বিষয়ে সাধারণ মুসলিম জনতার মধ্যে তিক্ততা বেশ ভালোভাবেই বিরাজ করছে; অনেকেই তাদের ভালো চোখে দেখছে না। তাই, আমেরিকার পক্ষে কাজ করতে চাইলে সাধারণ মুসলিমদের চোখে ছলনা করে ভিন্ন ফ্রন্টে খেলা দরকার। সেই ভিন্ন ফ্রন্ট হচ্ছে—নামমাত্র মুসলিম সমর্থন থাকা পাকিস্তান, অর্থাৎ ‘নাপাকিস্তান’।

সবাই জানে: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেলের যোগ্য হিসেবে প্রথম পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মন্তব্য করেছিলেন। আর বাস্তবে পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকার অনুগামী—এটাই আফগানিস্তানে পশ্চিমা আগ্রাসনের সময় তারা প্রমাণ করেছে।

এদিকে আরব শাসক নিয়ন্ত্রকদের সুবিধা হলো—তারা সাধারণ মুসলিম জনতার রাগ-ক্ষোভ দেখতে বা শুনতে হবে না। ছায়া-জোটের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আমেরিকাকেই অর্থায়ন করা হবে, কিন্তু নামটা নেওয়া হয় যে ‘মুসলিমদের সহায়তা করা হচ্ছে’। আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালানোর মতো অর্থনৈতিক সক্ষমতা পাকিস্তানের নেই; সেই খরচ বহন করে পশ্চিমাদের হয়ে আরবরা করে দিবে।

আফগানিস্তানের শরঈ শাসন অনেক সাধারণ মুসলিমের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তাদের কল্পিত ইসলামের ব্যাখ্যা আফগানিস্তানের প্রচলিত রেওয়ায বা অনুশাসনের সঙ্গে মেলে না; তারা মূলত নিজস্ব, মনগড়া বা পশ্চিমা প্রভাবিত ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছে।

এখন, যদি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ ঘটে, তখন সাধারণ মুসলিমরা আফগানিস্তানকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করবে; পশ্চিমা শক্তিগুলো এই পরিস্থিতিতে প্রোপাগান্ডা চালাবে। বলা হবে—“আফগানিস্তানে যদি শরঈ শাসন থাকত, তারা পাকিস্তানের মতো মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত না।” এভাবে মনগড়া ফিকহি ব্যাখ্যা ও বিতর্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে; আর পাকিস্তান বা অন্য সরকার যে মূলত ‘মুরতাদ’ হয়ে গেছে সে ব্যাপারগুলো চাপা থাকবে।


মার্কিন কৌশল এখন আর সরাসরি দখলদারি নয়; বরং আঞ্চলিক ‘প্রক্সি’ ব্যবহার করে যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা চালিয়ে যাওয়া।
পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হলেও এর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং ‘মুসলিম পরমাণু শক্তি’ ইমেজ তাকে মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে, যা মার্কিন স্বার্থে ব্যবহার করা যায়।
সৌদি আরব ও উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বৈধতা রক্ষায় পশ্চিমা সমর্থনকে বাঁচার অবলম্বন বানিয়েছে।
একবার মুসলিমদের মধ্যে ‘মুসলিম বনাম মুসলিম’ সংঘর্ষের বয়ান দাঁড়িয়ে গেলে, পশ্চিমারা আর কিছু করা লাগবে না।

মো. সাইফুল ইসলাম
শেয়ার করুন
Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn
QR কোড স্ক্যান করে পড়ুন
বিভাগ: মুসলিম বিশ্ব © ২০২৬ পর্যবেক্ষণ

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

একই বিভাগের অন্যান্য লেখা

ধর্ষণ যখন রণকৌশল—Strategic Rape এর ভয়াবহ বাস্তবতা
মুসলিম বিশ্ব

ধর্ষণ যখন রণকৌশল—Strategic Rape এর ভয়াবহ বাস্তবতা

??াশ্মির ফাইলসের নাম হয়তো আমরা সকলে শুনে থাকব— The Kashmir Files । ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা সম্বলিত আলোচ্য ফিল্ম ১১ই মার্চ ২০২২…

পর্যবেক্ষণ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আফগানিস্তান: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন অধ্যায়?
মুসলিম বিশ্ব

আফগানিস্তান: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন অধ্যায়?

??ফগানিস্তানের কাবুল চার বছর পনেরো দিন আগে ন্যাটোর হাত থেকে তালিবানের হাতে ফিরে যায়। বিশ বছরের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়ে পুনরায়…

পর্যবেক্ষণ ৩১ আগস্ট ২০২৫
আঞ্চলিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা: এরদোগান ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্র
মুসলিম বিশ্ব

আঞ্চলিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা: এরদোগান ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্র

??িরিয়ায় ইসরঈলি আগ্রসান; গ্রেটার ইসরঈল ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের ক্ষয়িষ্ণুতা “বৃহত্তর ইসরঈল” জায়নবাদী আন্দোলনের একটি মৌলিক আকাঙ্ক্ষা, যার শিকড়…

পর্যবেক্ষণ ২৬ আগস্ট ২০২৫
↑