ছাত্র সমন্বয়করা কী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ চেয়েছিলেন?
হাসনাতের পক্ষে থাকি বা না-থাকি, একটা বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার। আজকে যে বা যারা 'গুড আওয়ামীলীগ', 'বেটার আওয়ামীলীগ', 'মুজিবের আওয়ামীলীগ' এর পক্ষে একটা টুঁ শব্দ করবে, জেনে রাখেন, এরা গণশত্রু। এরা জুলাই এর পক্ষে থাকলেও এরা গণশত্রু। এই সময়টা শুয়োর আর মানুষ চিনে নেওয়ার সময়।
আওয়ামীলীগের বিচার করতে হবে, দল হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে, নেতাদের রাজনীতি থেকে ব্যান করতে হবে, সমর্থকদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে, আওয়ামী ল্যাস্পেন্সার ও এনাবলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক ক্যাম্পেইন ও কালচারাল ওয়ার ঘোষণা করতে হবে -- ৫ অগাস্টের পর থেকে আমরা এ কথা বলে আসছি। এটা অব্যর্থ ফর্মূলা। কিন্তু ছাত্র-সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিকভাবে কখনও এইসব পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় নাই৷ এরা লীগকে সীমিতভাবে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছে, লীগের রিসোর্স ব্যবহার করতেই এরা বেশি আগ্রহী ছিল। লীগের কালচারাল ফ্রন্টের বিরোধিতা এদের একজনও করে নাই। উলটো নির্লজ্জের মতো লদকালদকি করেছে।
আমি হাসনাত আব্দুল্লাহ-র কাছে জানতে চাই তার দলের লোকেরাই কীভাবে বলতে পারে গণহত্যার সাথে জড়িত না থাকলে লীগের লোকেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে? তার দলের লোকেরা কেন স্থানীয় পর্যায়ে লীগের লোকদের দলে ভিড়াচ্ছে? কেন তার দলের লোকেরা লীগের ল্যাস্পেন্সারদের সাথে ফস্টিনস্টি করে বেড়াচ্ছে? কীভাবে করে আসিফ-নাহিদ-মাহফযুরা আওয়ামীলীগের সবচে বড় ফ্যাসিলিটেটর প্রথম আলোর কোলে বসে থাকে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হাসনাতকে দিতেই হবে।
হাসনাত অনেক বড় রিস্ক নিয়েছে। সেজন্য তার সাথে থাকতেই হবে। হাসনাত যদি চায় লীগ এই যমিন থেকে নির্মূল হোক, সেই চাওয়ার সাথেও এই দেশের লক্ষ কোটি মানুষ আছে। কিন্তু কাউকে কোনো ব্ল্যাংক চেক দেওয়া যাবে না।
লেখক
জিম তানভীর


