হাসনাত কী আওয়ামী লীগকে সামনে এনে রাজনৈতিক চাল চালছেন?
বিএনপি-আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দুটো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের "মাইনাস টু ফর্মুলা" প্রয়োগের ব্যাপারটা একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন বন্দোবস্তের অংশীদারিত্ব প্রাপ্তির আশায় দুটো দলই সাময়িকভাবে ওয়াশিংটনের সাথে গিভ অ্যান্ড টেইকের ভিত্তিতে নিজেদের রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও অস্তিত্ব রক্ষা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
সদ্য গঠিত হওয়া NCP-এর একাধিক কেন্দ্রীয় সদস্যের সমকামিতার মতো মানবতা বিরোধী অপরাধকে বৈধতা প্রদানে কর্মতৎপরতার বিষয়টা সামনে চলে আসায় আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনীত করার ব্যাপারে যেই বিপুল জনসমর্থন দরকার তাতে ভাটার টান লেগেছে।
জনগণের আওয়ামী বিরোধী, মুজিববাদ বিরোধী কমন সেন্টিমেন্টকে পুঁজি করে রাজনীতি করার লক্ষ্যেই মূলত ১০ দিন পরে এসে হাসনাত আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগের নতুন বন্দোবস্তের থলের বিড়াল বের করেছে। তাও এমন একটা সময়ে এসে, যখন জনগণ যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়ে মার্কিন মদদে গাজ্জাবাসীর ওপর ইহুদি নরপিশাচদের বর্বরতাকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বে ইসলাম ও মুসলমানদের মূল শত্রু হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চিহ্নিত করতে শুরু করেছে।
বোঝাই যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই উম্মাহকে একটা প্রক্সি লড়াইয়ে ব্যস্ত রাখতে চাচ্ছে। একই ফাঁদে বারবার পা দেওয়া উচিত হবে না আমাদের। সেক্যুলারদের রাজনীতি নয়, আমাদের নিজেদের রাজনীতিতে মনোযোগী হওয়া উচিত এখন থেকে।
জনগণের আওয়ামী বিরোধি কমন সেন্টিমেন্ট নিয়ে রাজনীতি করা হাসনাত, সারজিসদের এখন নিজস্ব দলীয় রাজনৈতিক শক্তিমত্তা প্রকাশের সুযোগ এসেছে। বারবার ইসলামপন্থীদের রাজপথে না নামিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চিরতরের জন্য মুছে দিয়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরির ফিকির করা উচিত তাদের।
আর ইসলামপন্থীদের বলব, যতক্ষণ না শাতিমুর রাসুল ইস্যুতে হাসনাত, সারজিসদের পক্ষ থেকে এককভাবে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যাবে এবং গাজ্জার মুসলিমদের মর্মবেদনা বুকে ধারণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জায়নবাদী রাজনীতির শক্তিশালী সমালোচনা প্রকাশ পাবে, ততদিন তাদের কোনো কথা কানে তোলার দরকার নেই। আমরা বারবার সেক্যুলার রাজনীতির বলীর পাঠা হতে চাই না।
লেখক
আবু উসামা
