কোরবানি ঈদে গরু জবাই করাটা কি এতটাই সহজ ছিল মুসলিমদের জন্যে?
-এই "কোরবানির ঈদ" শব্দটাকে স্বাধীন করতেই আমাদের শত বছরের উর্ধ্বে লেগেছে। ১৮৪৩ সালের দিকে শুধুমাত্র ঢাকার এরিয়াতে কিছু মুসলিম শাসক গরু কোরবানি করতে সাহস পেতো। কিন্তু বাংলার রাজধানী যখন ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে চলে য়ায়, তখন হিন্দু শাসকদের আগ্রাসনে এই সামান্য অধিকার'টাও তখন আমরা হারাতে বসি। তৎকালীন হিন্দু রাজা'রা আমাদের এই কোরবানির ঈদকে "বকরি ঈদ" নামকরণ করে রেখেছিল। অর্থাৎ, তাদের ভয়ে মুসলিমরা চাইলেও গরু জবাই দিতে পারতো না। আঠারো শতকের শেষের দিকে "সুধাকর পত্রিকার" একটা আর্টিকেল দেখলে ভালো বুঝবেন;
সুধাকর পত্রিকা(৭'ফেব্রুয়ার ১৮৯০): "বকরি ঈদেও ঊর্ধ্বতন হিন্দু কর্মচারী এবং জমিদারদের আমলারা বগুড়ার নারহাট্টার মুসলমানদের কোরবানি দিতে দেননি। মুসলমানদের উচিত এ ব্যাপারে লে. গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা।"
মানে বুঝতে পারেন? ১০০ বছর আগেও এই বাংলায় কোরবানির ঈদ পরিচিত ছিল ‘বকরি ঈদ’ নামে। ঢাকার বাইরে এই ঈদ'টাকে আমরা "কোরবানির ঈদ" হিসেবেও উচ্চারণ করতে পারতাম না; সেখানে গরু কোরবানি দেওয়া তো আকাশকুসুম ভাবার সমান। আমাদের ধর্মীয় উৎসবে স্রেফ এতটাই পরাধীন ছিলাম আমরা, তৎকালীন হিন্দু শাসকদের কাছে।
কিন্তু শেষমেশ আমাদের এই পরাধীনতার অবসান ঘটে; যখন ১৯৪৭-এ ঢাকা পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যায়। ঠিক তখন থেকেই গরু কোরবানির মাত্রাটা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
*ইতিহাস থেকে; ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে নিজের ছেলের আকিকায় গরু কোরবানি দেওয়ায় "শেখ বুরহানুদ্দিনের" হাত কেটেছিল তৎকালীন হিন্দু শাসক গৌড়গবিন্দ। তাই আজকের দিনে গরু খাওয়ার পর তার জন্য অন্তর থেকে একটু দুআ করুন। তাঁর কারণেই রাজা গৌর-গোবিন্দকে সিলেটের মাটি থেকে বিতাড়িত করে গরু খাওয়ার স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছিলেন "শাহ-জালাল ইয়েমেনী (রাহ.)।
তাই, মন চাইলে কোরবানির গরু,গরু জবাই, গরু খাওয়া থেকে শুরু করে কোরবানি উৎসবের যেকোনো মুহূর্তের পিক আপলোড দিবেন।
কেন দিবেন??
আমাদের চারপাশের শাহবাগী/সেক্যুলার'রা যেভাবে ইসলামোফোবিয়া ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, সেই আগ্রাসনের বিপরীতে এসব ছবি আপলোড দেয়া একটা নীরব লড়াই। এটা মুসলিমকে মনে করিয়ে দেয় তার আত্মপরিচয়।
কিন্তু নিয়ত'টা যেন শুধুমাত্র রবের উদ্দেশ্যে হয়।
এখন অনেকেই বলবে এটা লোক দেখানো ইবাদত বা রিয়া। তাদের এই আশংকা'কেও আমি সম্মান জানাই। সবাই তাদের নিজের মতো করেই পালন করুক। শুধু নিয়ত'টা ঠিক রাখবো, ইন-শা-আল্লাহ।
লেখক
তানভীর সুমন
