প্রথমা প্রকাশনী জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে বই প্রকাশ কী বার্তা দেয়?
আজকে প্রথম আলো বাংলাদেশের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান নিয়ে একটি বই বের করেছে আসিফ মাহমুদের নামে। যা খালি চোখে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে দুরভিসন্ধি।
২০২২ সালের ১৭ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রথম আলোর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি ভারতীয় হাইকমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হয়েছে, যেখানে প্রথম আলো গ্রুপের মালিকানাধীন চরকির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দর্শনে এটি একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা মনে হলেও, এর গভীরে রয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের এক সুপরিকল্পিত কৌশল।
চুক্তিটা আদতে চরকির নামে মনে হলেও এর মুল প্রতিষ্ঠান প্রথম আলো এবং তার সমস্ত অর্গানাইজেশন এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করবে বলে সেখানে চুক্তি করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রিয় সিকিউরিটি এবং জনগনের চোখে ধুলা দেয়ার উদ্দেশ্যে মুল প্রতিষ্ঠান কে বাইরে রেখে অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের নাম ইউজ করে এটি বাস্তবায়নের কুট কৌশল সে হাজির করে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘সফট পাওয়ার’ প্রয়োগের অন্যতম উপায় হলো কালচার, গণমাধ্যম, এবং বিনোদনের মাধ্যমে একটি দেশের জনগণের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে এই কৌশল প্রয়োগ করছে, এবং এই চুক্তির মাধ্যমে সেটিকে আরও জোরদার করা হয়।
এই চুক্তি থেকে প্রমান হয় প্রথম আলো ভারত রাষ্ট্রের একটি কলসাল্টেন্সি ফার্ম। তাই ভারতের কনসাল্টেন্টের ভারত বিরোধি একটি অভ্যুত্থানের ইতিহাস নির্মান একটি ভয়াবহ স্যাবোটাজের ইঙ্গিত বহন করছে।
বিনোদন, রাইট আপ এবং আর্ট কালচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। বাংলাদেশের বিভিন্ন কনটেন্ট এবং বই পুস্তক সহ প্রথম আলোর হাতে থাকা বিভিন্ন এলিমেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের চিন্তা-ভাবনার ওপর প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রতিফলিত হতে পারে।
এই চুক্তির ফলে প্রথম আলোর অফিসিয়াল নীতি হলো ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য প্রথম আলো এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার থেকে বিরত থাকবে, যা ভারতের স্বার্থবিরোধী হতে পারে। ফলে বাংলাদেশে মুক্ত সাংবাদিকতা ও স্বাধীন মত প্রকাশের পরিবেশকে প্রতিনিয়ত বায়াস করতে হবে তার। যা সে করতেছে আগে থেকেই। এবং এই বইয়ের মাধ্যমেও তা বাস্তবায়ন করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
![]() |
প্রথম আলোর মালিকানাধীন চরকি যখন ভারত সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে যায়, তখন এটি শুধুমাত্র একটি বিনোদন প্ল্যাটফর্মের চুক্তি থাকে না। এটি একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে ভারতের স্বার্থকে বাংলাদেশেরও উপরে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যেটাই এই চুক্তির নীতিমালা।
এই চুক্তির ফলে অবধারিতভাবে প্রথম আলোর এমন বই পুস্তক লেখা বা কনটেন্ট প্রচার করতে হবে যা বাংলাদেশি জনগণের ভারত সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে বাংলাদেশে আরও শক্তিশালী করবে।
এই বই তাই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যাবহারের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথম আলো যেই অভ্যুত্থানের বিরোধি নীতিগত ভাবে তারা সেইটা নিয়ে কোনো ইতিহাস রচনা করতে পারে না।
জামাত আজকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বই বের করলে যা হয় এটা সেরকম অবস্থান। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রথম আলো এর আগে আনু মুহাম্মদের মতো একজন লোককে এই বিপ্লবের কান্ডারি বানাতে চেস্টা করেছে। তার ধারাবাহিকতায় আজকে তারা তাদের ন্যারেটিভ, আরও স্পষ্ট ভাবে বললে ভারতের ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠায় এই বইয়ের মতো একটা প্রোপাগান্ডা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছে৷
বাংলাদেশের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ফলে যে বিজয় সেই বিজয়ের ইতিহাস ছিনতাইয়ের সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে এই বইয়ের মাধ্যমে। এমত অবস্থায় এই বই কোনো রকম ভ্যারিফিকেশন বা যাচাই বাছাই ছাড়া এভাবে বাজারজাতকরন বাংলাদেশের আগামির রাজনীতির জন্য হুমকি। তাই অবিলম্বে এই বই মার্কেট থেকে তুলে নিতে হবে এবং যাচাই বাছাইয়ের ব্যাবস্থা করতে হবে। প্রথম আলোর যদি সৎ সাহস থাকে তবে তাদের এই বইটির কিছু কপি আমাদের পাঠাতে পারে। যা যাচাই বাছাইয়ের পর আমরা সিদ্ধান্ত নিব এই বই বাজারজাতকরণের উপযুক্ত কিনা! নাহলে যেই বইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর হুমকির সম্ভাবনা রয়েছে তা এভাবে ছড়িয়ে পরা জাতির জন্য বিপজ্জনক।
লেখক
রাতুল মুহাম্মদ



