বিবিধ
⏱ ৩ মিনিট পড়া
ইনকিলাব মঞ্চ কী নব্য সাহাবাগ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে?
প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
সূচিপত্র
ইনকিলাব মঞ্চ কী নব্য সাহাবাগ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে?
যারা নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন তাদের বলছি, ড. ইউনূসের প্রক্সি ক্রুসেডার আমল সহসাই শেষ হচ্ছে না নিশ্চিত থাকুন। অন্তত আগামী ২ বছরের মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছি না।
যদি এর পূর্বেই নির্বাচনের জন্য ভারতের লবিংয়ের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত সহ অন্যান্য বিগত বন্দোবস্তের গণতান্ত্রিক দলসমূহ প্রেসারাইজ করে নির্বাচনের ব্যবস্থাও করে, নতুন গঠিত সেই সংসদ বড়জোর ৬-১২ মাস টিকবে। বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠীই বাধ্য হয়ে সংসদ বর্জন করবে। ক্ষমতার ব্যাপক রদবদল এবং ব্যাপক রক্তপাত অপেক্ষা করছে এই জাতির জন্য।
সমন্বয়কদের নতুন দলটিকে অনেকেই হিসাবের বাইরে ফেলে দিচ্ছেন। তবে জানিয়ে রাখি, অপিনিয়ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ওয়াশিংটন সিদ্ধহস্ত আর কোনো পপুলিস্ট বয়ান হাজির করে বাঙালিকে ম্যানুপুলেট করার মতো সহজ কাজ আর হয় না।
এই দলটিকে সংশোধন করানোর জন্যই ইনকিলাব মঞ্চকে মাঠে নামানো হয়েছে, যাতে তাদের প্রতিক্রিয়াপ্রবণ আচরণের কারণে শুরুতেই মাইনাস হয়ে না যায়। যদিও আজকে সবাই "অ্যান্টি শাহবাগী" হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চকে কাউন্ট করছে, আমার শক্ত ধারণা অনাগত দিনে এরাই ওয়াশিংটনের প্রেসক্রিপশনে সমন্বয়কদের সমর্থন আদায়ে ন্যারেটিভ দাঁড় করাবে।
ক্রুসেডার এজেন্ট ড. ইউনূসের বয়স হয়েছে। সাব কন্টিনেন্টে ওয়াশিংটনের শীঘ্রই নতুন "হর্সম্যান" দরকার হবে। কারণ, ইউরোপ থেকে সরিয়ে এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজর এখন মধ্য-দক্ষিণ এশিয়ায় নিবদ্ধ হয়েছে। আমার দৃষ্টিতে পালনবাদী মাহফুজ আলম ওয়াশিংটনের ফিউচার হাই ভ্যালু টার্গেট, শুধু একটু ঘষামাজা দরকার।
মধ্যবর্তী এই সময়ে ড. ইউনূসের হাত ধরে এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে শোষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করার একটা শক্তিশালী মেকানিজম দাঁড় করিয়ে ফেলবে ওয়াশিংটন এবং এই লক্ষ্যেই ব্যস্ত সময় পাডর করছে অন্তর্বর্তীকালীন এনজিওবাদী সরকার।
আর এই কারণে ঢালাওভাবে এখন ইসলাম এবং মুসলিমদের জিম্মি করার আয়নাবাজি বন্ধ থাকায় আপনারা যদি ভেবে বসেন, ইউনূস যতদিন আছে ততদিন আপনারা নিশ্চিন্ত, তবে ভুল করবেন।
কারণ, এবার ঢালাওভাবে ইসলামপন্থিদের জিম্মি করা হবে না। কেবল, আপোষহীন তাওহিদবাদীদেরকেই মাইনাস করা হবে। শরিয়াহ প্রত্যাশীরা স্বয়ং ট্র্যাডিশনাল ইসলামপন্থিদের কাছেই শত্রুতে পরিণত হবে। ইনকিলাব মঞ্চের বিরোধিতা করা মানেই মুজিববাদের সমর্থন দেওয়া— এমন একটি বাইনারি ন্যারেটিভও দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আসিফ আদনান ভাইদেরকে মূলধারার উলামায়ে কেরামের সহবত থেকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে মাহফুজ-হাদী গং। আর তাদের কাছে মূলধারার উলামায়ে কেরাম বলতে গণতন্ত্রপন্থী, নারীবাদের সমর্থক এবং সেক্যুলারফোব না হওয়ার বিষয়টি তারা নিজেরাই জানিয়েছে।
মোটকথা, ইসলামোফোব র্যাডিক্যাল সেক্যুলারদের সরিয়ে মডারেট চিন্তাধারার বিষ ইনজেক্ট করার জন্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক সেক্যুলারদের নিয়ে গঠিত হবে এই রাষ্ট্রের নতুন ডিপ স্টেইট। ইসলামপন্থীদের মধ্যে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের কর্মপন্থা ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের কাছে একটাই চাওয়া, আমাদের ফ্রন্ট লাইন অ্যাকটিভিস্টদের পরিণতি যাতে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের মত না হয়।
লেখক
আবু উসামা


