বিবিধ
⏱ ৩ মিনিট পড়া
বাংলাদেশে আমেরিকা কী করতে চাইছে?
প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
এত হাইপ তোলা ইস্যুর ভিড়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে ইফতার করার মধ্যে বড়ো দুটো বার্তা আছে।
প্রথম বার্তা: আমেরিকা অফিসিয়ালি বাংলাদেশে কাজ শুরু করল। কারণ জাতিসংঘ আপাদমস্তক আমেরিকার গৃহপালিত সংস্থা।
পশ্চিমারা কোনো দেশে প্রবেশ করলে এসব সংস্থার সাইনবোর্ড সামনে রাখে। কোনো দেশ থেকে বের হলে সম্পূর্ণ বের হয় না; এসব সংস্থাকে মানবিক কাজ করার অজুহাতে সেখানে রেখে আসে।
বছর দুয়েক আগে 'যা ঘটেছে যা ঘটছে যা ঘটবে' বইতে দেখিয়েছিলাম এসব সংস্থা কক্সবাজারে কতটা তৎপরতা চালাচ্ছে। কথাগুলো পয়েন্ট বাই পয়েন্ট মিলে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় বার্তা: কোনো জনগোষ্ঠী বা জাতিকে নিজেদের কাজে লাগানোর সবচেয়ে মোক্ষম তরিকা হচ্ছে সেই জনগোষ্ঠী বা জাতির আবেগ ও চেতনার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তাদেরকে উত্তেজিত করে তোলা।
রোহিঙ্গারা পশ্চিমাদের জন্য রেডিমেড বারুদ। মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এই বারুদ তৈরি হয়ে আছে। নিজের পরিবার, প্রিয়জন, ভিটে-মাটি হারিয়ে রোহিঙ্গা তরুণরা এখন প্রতিশোধের নেশায় বিভোর।
এখান থেকে বিপুল ম্যানপাওয়ার পাবে আমেরিকা।
পশ্চিমারা রোহিঙ্গাদের অর্থ, অস্ত্র ও বুদ্ধি দিয়ে তৈরি করবে। রোহিঙ্গাদের জন্য করবে না; করবে নিজেদের জন্য। কি সেটা?
'যা ঘটেছে যা ঘটছে যা ঘটবে' বইতে দেখিয়েছিলাম বিড়াল কোনো জায়গায় মাথা ঢুকিয়ে দিতে পারলে সেখান দিয়ে পুরো শরীর ঢুকিয়ে দিতে পারে।
পশ্চিমারা রোহিঙ্গাদের ইস্যু নিয়ে ধীরে ধীরে কক্সবাজারে প্রবেশ করবে।
সেন্টমার্টিনকে তো ভাতারের বাসর ঘরের জন্য প্রস্তুত করছেই। আমেরিকা ওদেরকে সশস্ত্র করে তুলবে। বছর দুয়েক আগেও রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত করে দেখা গিয়েছিল এর পেছনে আছে কিছু এনজিও।
যাহোক। এগুলোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওই অঞ্চলকে অস্থির করে তোলা হবে। পার্বত্য অঞ্চল তো আগে থেকেই উপজাতি সন্ত্রাসীদের কবলে।
ওদিকে আছে মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ। আরো আছে ভারতের মিজোরাম, মনিপুর ও নাগাল্যান্ডের অস্থিরতা। এই সব মিলিয়ে এই তিন দেশের পার্বত্য অঞ্চল হবে আমেরিকার খেলার মাঠ৷ এটা এমন একটা মাঠ যেখানে একবার আগুন লাগলে সেটা সহজে নিভবে না। কম করে হলেও ২০ বছর জ্বলবে।
এজন্যই দেখে থাকবেন রোহিঙ্গাদেরকে ভাসানচরে স্থানান্তরের সময় এনজিওগুলো মায়াকান্না জুড়ে দিয়েছিল। দেশিয় পশ্চিমা পাপেট গণমাধ্যমগুলোও ভাসানচরের স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে আবেগি সংবাদ প্রচার করছিল। কারণ, রোহিঙ্গারা যদি কক্সবাজার থেকে সরে যায়, তবে আমেরিকান পরিকল্পনাটা বাস্তবায়িত হবে না।
মূলত আমেরিকার লক্ষ্য হচ্ছে চীনকে ঠেকানো। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমেরিকা সব পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক যা ঘটছে এর সব কিছু সব কিছুর পেছনে আছে আমেরিকা। সমুদ্রসীমা ও পার্বত্য এই অঞ্চলগুলোতে আমেরিকা একাধিক মিলিটারী বেইজ নির্মাণ করতে চাচ্ছে।
লেখক
মো. করীম শাওন


