বিবিধ ১ মার্চ ২০২৫ ⏱ ৬ মিনিট পড়া

ধর্ম ব্যবসার রাজনীতি: বৈশ্বিক সংকট ও ক্ষমতার খেলা

প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
ধর্ম ব্যবসার রাজনীতি: বৈশ্বিক সংকট ও ক্ষমতার খেলা


বিশ্বব্যাপী ধর্ম ও রাজনীতির মেলবন্ধন নতুন কিছু নয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে এটি এক ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে। ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্র ও রাজনীতিবিদেরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বিশ্লেষণ করা হলো।



এরদোয়ানের দ্বৈত চরিত্র: একদিকে ব্যবসা, অন্যদিকে নব্য সালাহউদ্দিন

এরদোয়ান ভোট ব্যাংকের জন্য আয়া সুফিয়াকে পুনরায় মসজিদ বানালেও, তার সরকার ঠিকই ইসরাইলের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ফিলিস্তিনের মজলুমদের জন্য নব্য সালাহউদ্দিনের ভূমিকা নেয়, কিন্তু বাস্তবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না।



মোদি ও হিন্দুত্ববাদীদের উত্থান

ভারতে মোদি সরকার বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণ করেছে, যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হিন্দুত্ববাদীদের তোষণ করা। গরুর গোশত খাওয়ার অভিযোগে মুসলিমদের পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, আর প্রতিনিয়ত মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর বুলডোজার চালানো হচ্ছে।



ইরানের শিয়াপন্থী সরকার ও ফিলিস্তিন ইস্যু

সাধারণ শিয়া মুসলিমরা ফিলিস্তিনের জন্য পাগল হলেও, ইরানি সরকার ট্রাম্পের অনুমতি নিয়ে ইরাকে আমেরিকান ঘাঁটির পাশে খালি মাঠে মিসাইল মারে! ইসরাইলে হাজার হাজার মিসাইল ছুড়লেও, একজন ইহুদিও মারা যায় না— যা সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ।



পাকিস্তানের "নাপাক" রাজনীতি

‎এদিকে পাকিস্তানের নাপাক আর্মি আরো বড় নাটকবাজ।

‎পশতুন বেলুচ জাতিগোষ্ঠী ছাড়া সিন্ধি, পাঞ্জাবিদের কাছে তারা বিশাল হিরু, কারণ মাঝে মাঝে দুই একটা রেন্ডিয়ানকে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে চলে আসে, আবার বিপরীত সীমান্তে নিরিহ উপজাতি মুসলিমদের উপর বিমান হামলা করে, নিজ দেশের বিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকাকে ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে, বাদ যায়নি তালিবের উপ প্রধানমন্ত্রী মোল্লা বারাদার, উমর সালেসের বন্ধু, মোল্লা জাইফ।

‎এতো কিছুর পরও তারা মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের গর্বের আর্মি। 


বাংলাদেশ: ধর্ম ব্যবসার নতুন মহাযজ্ঞ

বাংলাদেশেও ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা হচ্ছে। কিছু বিশেষ ব্যক্তি ও সংগঠন নিজেদের ইসলামপ্রেমী দেখিয়ে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।


সমকামিতার বিতর্ক ও ধর্মীয় প্রতারণা

‎২৪ কথিত বিপ্লবীরা আরো ভালোভাবে ধর্ম ব্যবসার রাজনীতি রপ্ত করেছে।

‎চলমান তিনটা ঘটনা দিয়ে প্রমাণ করবো ইনশাআল্লাহ।

‎সমন্বয়কদের নতুন রাজনৈতিক দলে সমকামী দলের শীর্ষ পদ ভাগিয়ে নিয়েছে, দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনা,  প্রথমে তারা অবজারভেশন করে দেখল কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, দেখল বিশাল অবস্থা,  পোলাপান টিটকারি শুরু করল মুন্তাসির কারে কখন খাবে, কার পিছনে কখন ফাটাবে এটা নিয়ে যখন দেশবাসী সন্দিহান ঠিক সেই সময় হাসানাত আব্দুল্লাহ সারজিস আলম, রিফাত রশীদরা একসাথে পোস্টানো শুরু করল আমরা মুসলমান, সমকামিতার মতো বিকৃত জিনিস সমর্থন করি না, এরপর জনগণের চোখে ধুলো দিতে উমরাহ করার প্ল্যানও করল, কে কোথায় তারাবিহ পড়ল এগুলোর প্রচার শুরু করল।

‎

‎কিন্তু যাকে নিয়ে এত কিছু সেই মুন্তাসির স্বপদে বহাল থাকল।  এটাই ধর্ম ব্যবসা। 



নবী অবমাননার বিরুদ্ধে নীরবতা

রাখাল রাহা নবি সোহেল হামান গালিব নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবমাননা করল পুরো দেশবাসী চেয়ে থাকল কমপক্ষে একটি স্ট্যাটাস হলেও দিবে, কিন্তু কোনো সমন্বয়ক কিছু বলল না।

‎কিন্তু যখনই পীরবাবা তানভীর ও রাখাল রাহার ৪০০ কোটি মেরে দেওয়ার খবর পাবলিক হলো, আর পীর বাবা তানভীর যখন সারজিসের বিয়ের ঘটক তখন সার্জিস পোস্ট মারতে দেরি করল না।

‎৬ বার ইডিট করল, আব্বেদের থেকে আপত্তির পর অবশেষে বহাল থাকল এই রাখাল রাহা আমাদের নবীকে গালি দিয়ে৷

‎চাচা নিজের জান বাঁচা, রাখাল রাহাকে ছুঁড়ে মেরে নিজের ধর্ম ব্যবসার লজিক কাজে লাগিয়ে বেঁচে গেল।

‎কিন্তু তবুও রাখাল রাহা গ্রেপ্তার হলো না।

‎কিন্তু তাকে নিয়ে ধর্ম ব্যবসাও বাদ গেল না। 




শাহবাগ ও নতুন রাজনৈতিক এজেন্ডা

‎শাহবাগিরা মাহফুজের প্ল্যানে লাকি আক্তারের নেতৃত্ব আবার সামনে এলো, এবার উদ্দেশ্য কওমি আর মানহাজিদের ২৪ মুভমেন্ট থেকে খারিজ করে জামাতকে মাইনাস করবে মফিজ আলুম,  এদিকে তওহিদী জনতা সাবধান হোন!  শাহবাগী কমরেড শান্ত হোন!

‎দেশবাসীর মাথে একাত্মতা পোষণ করতে  সমন্বয়করা গর্জে উঠল,  ঢাবি রাবি, সব জায়গাতে স্লোগান দিলো, শাহবাগ আর ফিরে আসবে না,  শাহবাগ যেহেতু শাপলার সাথে কানেক্টেড তাই মাহিন সরকারের মতো গেণ্ডুরাও শাহবাগ নিয়ে সিম্প্যাথি দেখাইল।

‎

‎কিন্তু সেই যে বললাম ধর্ম ব্যবসা, শাহবাগ থানাতে আইনিভাবে অর্নবকে ছাড়িয়ে আনা মব, কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যাওয়া, পুলিশকে বেদম পেটানো মব তো নয়ই, উল্টো মূল কালপ্রিট লাকি আক্তার সামিনা লুৎফারা বহাল তবিয়তে আছে।



এই তিনটা ইস্যু দিয়ে বুঝাইলাম, তাওহিদবাদী জনতা, আপনারা হাসানাত আব্দুল্লাহ-র কপালে সেজদার চিহ্ন দেখে প্রতারিত হয়েন না,  আপনারা সারজিসের পর্দা করা হাফেজা বউ বিয়ে করা দেখে পাক্কা মুসলিম মনে কইরেন না।

‎সামনে এরকম ঘটনা আরো ঘটবে। সামনের দিনগুলো বিশাল খারাপ হবে,এরা হাসিনার চাইতে বেশি আয়না ঘর বানাবে, আমরা শেয়ালের মুখ থেকে হায়েনার মুখে পড়েছি, কারণ আগে ছিলাম ভারতের সেবাদাসদের কবলে, কিন্তু এরা হলো আমরিকার দালাল,  আর বিশ্বব্যাপী আমরিকা কী করেছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

‎আগে ছিল আয়না ঘর, সামনে হবে গুয়ান্তনামা, আবু গারিব, বাগরাম কারাগারের মতো দুনিয়ার জাহান্নাম।

‎

‎আমরা আশ্চর্য হচ্ছি, এই আবেগি হুজুররা শরীফ উসমান হাদির মতো শাহবাগী প্রো ম্যাক্স  কে শক্তিশালী করতে তার ব্যানারে শাপলা বাদ দিয়ে শাহবাগে আন্দোলন করে,  ১৩ পরবর্তী শাহবাগীরা পুরো দেশকে কন্ট্রোল করেছে, তারা ছিল হাসিনার সেবা দাস, বা হাসিনাই তাদের সেবা দাস । যেহেতু তরুণরা শাহবাগকে ঘৃনা করে তাই সেই শাহবাগী জুজুর ভয় দেখিয়ে ভোট ব্যাংক ভারি করবে। 


‎সর্বশেষ কথা এখানেও ধর্ম ব্যবসা। এই শাহবাগের উত্থান হয়েছিল জামাতকে ধ্বংস করতে, ইসলামকে মিটিয়ে দিয়ে হিন্দুত্ববাদ কায়েম করতে।

‎এরা দাবি করে তারা এন্ট্রি শাহবাগী, কিন্তু ব্রো এরাও শাহবাগ ২.০ কায়েম করবে।  পূর্বসূরী শাহবাগিরা ঢাবির চারুকলাতে, বাংলা একাডেমিতে, এনসিপির মতো নতুন রাজনৈতিক দলে ঘাপটি মেরেছে৷

‎

‎এটা বুঝতে হলে আপনাদের আরো পরিপক্ব হতে হবে।

‎

‎আপনাদের এদের এজেন্ডা সম্পর্কে জানতে হলে আরো পড়তে হবে জানতে হবে।



শেষ কথা: আগামীর ভয়াবহ দিনগুলো

বিশ্বব্যাপী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতির খেলা চলছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাবানরা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই মুসলিম জনগণের উচিত সচেতন হওয়া, পড়াশোনা করা, এবং প্রতারকদের চিনতে শেখা।




লেখক
আলতাফ হোসেন
শেয়ার করুন
Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn
QR কোড স্ক্যান করে পড়ুন
বিভাগ: বিবিধ © ২০২৬ পর্যবেক্ষণ

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

একই বিভাগের অন্যান্য লেখা

ইনকিলাব মঞ্চ কী নব্য সাহাবাগ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে?
বিবিধ

ইনকিলাব মঞ্চ কী নব্য সাহাবাগ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে?

??ারা নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন তাদের বলছি, ড. ইউনূসের প্রক্সি ক্রুসেডার আমল সহসাই শেষ হচ্ছে না নিশ্চিত থাকুন। অন্তত আগামী ২ বছরের মধ্যে…

পর্যবেক্ষণ ১৫ মার্চ ২০২৫
বাংলাদেশে আমেরিকা কী করতে চাইছে?
বিবিধ

বাংলাদেশে আমেরিকা কী করতে চাইছে?

?এত হাইপ তোলা ইস্যুর ভিড়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে ইফতার করার মধ্যে বড়ো দুটো বার্তা আছে। ‎ ‎প্রথম বার্তা…

পর্যবেক্ষণ ১৫ মার্চ ২০২৫
সমকামিতা ও নাগরিক পার্টি
বিবিধ

সমকামিতা ও নাগরিক পার্টি

মোনতাসির ও রুহুল আবদিন, ব্র্যাক, আসিফ সালেহ ও অন্যান্য এনজিও(The Spider Cult): Disclaimer: কিছু এক্সপ্লিসিট ছবি থাকবে, ভিডিও একটা থাকবে এবং…

পর্যবেক্ষণ ১৫ মার্চ ২০২৫
↑