রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের নামে নদী ও বিল হত্যার পরিকল্পনা
ভারতের Minister of Defence রাজনাথ সিং গত বছর লখনৌ শহরের Central Command HQ, Indian Army–তে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সকল শাখার নীতিনির্ধারকদের সমন্বয়ে Joint Commanders' Conference 24 উদ্বোধন করেন।
কনফারেন্সটি ভারতের সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ছিল। সেখানে ভাষণ চলাকালীন সময়ে রাজনাথ সিং তার সামরিক বাহিনীর সহকর্মীদের জন্য ইউক্রেন ও ফিলিস্তিনের যুদ্ধ হতে শিক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা জারি করেন। এর মাঝ থেকেই আমরা ভারতের সত্যিকার উদ্দেশ্য আঁচ করতে সক্ষম হয়েছিলাম।
ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনের ওপরে যেমন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে, ভারত যদি তার কোনো শত্রুর ওপরে অনুরূপ কৌশলের আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়ে থাকে, সেটি হলো বাংলাদেশ। আর সেটি সকল বিষয়ের জন্য প্রযোজ্য। এর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হলো আমাদের খাদ্য উৎপাদন ও আমদানির সক্ষমতা। ভারতের সাথে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি উদ্ভব হলে Indian Navy আমদানির পথ বন্ধ করে দিতে সক্ষম। আলোচ্য কনফারেন্সে তা বাস্তবায়নের আগ্রহ–সম্বলিত জোরালো ইঙ্গিত অ্যাডমিরাল দিনেশ কুমার ত্রিপাঠি দিয়েছিলেন বলে ভারতের কিছু সামরিক বিশ্লেষকের পক্ষ থেকে কথিত রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতের ওপর থেকে আলোচ্য নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভারত থেকে সুনির্দিষ্ট পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ যেখানে অবদান রাখতে সমর্থ হলেও, ভারত ও তার Intelligence Community নীরবে সবকিছু বসে থেকে হজম করছে বলে মনে করার কারণ নাই। অনুমান করা যায় যে, আমাদের দুগ্ধজাত খাবার উৎপাদনের সক্ষমতা যে কারণে ওদের বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
আমরা বাংলাদেশিরা বার্ষিক শত শত মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দুগ্ধজাত পণ্য European Union (EU) ও New Zealand থেকে আমদানি করি। যেখানে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুগ্ধজাত খাবার উৎপাদক। কিন্তু ওখান থেকে আমাদের আলোচ্য পণ্যের আমদানির পরিমাণ মাত্র কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের কাছে অঙ্কটি বেশ গুরুত্ব রাখে, বিশেষ করে ওদের পূর্ব সীমান্তে অবস্থানকারী নাগরিকদের কাছে। কারণ, ওখান থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যের মূল ক্রেতা বাংলাদেশের নাগরিকেরা। যদিও আমাদের হিসাবে তা পরিমাণে অত্যন্ত স্বল্প। এর পেছনেও নানান কারণ বিদ্যমান রয়েছে।
সবকিছু বিবেচনা করে আমরা আপাতত ভারত থেকে কোনো দুগ্ধজাত খাবার আমদানি করছি না। পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর দিকেও আমরা মনোযোগ দিতে চেষ্টা করছি। আমদানির ওপর আমাদের যে নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নীতিকে The Financial Express সম্প্রতি Infant Industry Protection (ISI) বলে চিহ্নিত করেছে।
গত জুন মাসের ১৬ তারিখে ওখানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে উত্থাপিত রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপন করতে হলে স্থানটি ২৯ ফিট ভরাট করতে হবে। চারদিকের ঢেউ থেকে বাঁচাতে ০৫ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ উঁচু করে রাস্তা তৈরি করতে হবে। সেখানে সেতু নির্মাণেরও দরকার হবে। যা অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে লাভজনক নয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমানের ভাষায়, ওখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে চলন বিলের কফিনে শেষ পেরেক মারা হবে। কিন্তু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে সাংবাদিকেরা নিয়ে গেলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে চলন বিলের ক্ষতি হবে না। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুসারে শাহজাদপুর হলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। ফলে স্থান পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
আর আলোচ্য কথাটি আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ভারত ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রসঙ্গে। আমাদের আলোচ্য অঞ্চলটি হলো এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম গো–চারণ ভূমি। যেখান থেকে আমাদের দেশের ৭৩ শতাংশ দুধ উৎপাদিত হয়। ফলে, আমাদের দেশকে দুগ্ধজাত পণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হলে সবার আগে থাকবে সিরাজগঞ্জের আলোচ্য অঞ্চল। যা টিকে রয়েছে আশপাশের বড় নদী, খাল ও বিলের সহায়তায়। ফলে, আশপাশের বড় নদী, খাল ও বিল যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের নিজস্ব দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা হয়তো ৭৩ শতাংশ কমে যাবে। অর্থাৎ সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে। যা আমাদের জন্য ভয়াবহ আঘাত হবে। Indian Armed Forces সাগরে অবরোধ স্থাপন করলে তখন Baby Formula–এর অভাবে আমাদের শিশুরা ভুগতে শুরু করবে। নিরুপায় হয়ে তখন ভারতের দিকে ঝুঁকলে তারা ডিটারজেন্ট, ইউরিয়া আর ফরমালিন–যুক্ত খাবার আমাদের শিশুদের মুখে ঢুকিয়ে দিতে পারে।
U.S. Army War College–এর National Security বিষয়ে সিনিয়র সামরিক নেতাদের যখন পড়ানো হয়, তখন Food Security নামক আলাদা একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মূল বিষয় হলো—শত্রু যেন আমার দেশের জনসাধারণ অথবা বাহিনীর খাবারের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করা। এর আরেকটি ছায়া দিক হলো—শত্রুপক্ষের জনসাধারণ ও বাহিনীর খাবার বা রসদ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার ধারণা।
অনুরূপ আরো নানান উন্নয়ন রয়েছে। যা আসলে আমাদের শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অভাব নেই। তবুও আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় করতে হলে তার জন্য দেশে জায়গা অনেক রয়েছে। সুতরাং, দেশের কৃষি ও খামার ধ্বংসের সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং দেশকে শত্রুর কুৎসিত থাবায় তুলে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়বে—এমন কোনো পদক্ষেপ আমাদের ভূখণ্ডের কোনো নাগরিক নেবেন না বলে আমি আশা রাখছি।
Revan M