রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সহায়তার নামে কী করছে যুক্তরাষ্ট্র?
আগেই বলেছিলাম, মূলত, রোহিঙ্গাদের অর্থ সহায়তা পৌঁছানোর নাম করে ড. ইউনুস ক্রুসেডার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডার Plan-A বাস্তবায়ন করতেই সদ্য আরাকান আর্মির মাধ্যমে দখলকৃত রোহিঙ্গা মুসলিমদের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত এনজিও সমূহের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যেই জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসকে দাওয়াত করে এনেছিলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
এটাও বলেছিলাম, আরাকান আর্মির সাথে আ*র*সার বিরোধ এক নতুন পর্যায়ে যেয়ে পৌঁছুবে। কারণ, আরাকান রাজ্যে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত এনজিও সমূহের প্রবেশাধিকারের বিনিময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পেছনে বরাদ্দকৃত অনুদানের সিংহভাগ চলে যাবে আরাকান আর্মির কাছে এবং পরবর্তিতে এই বরাদ্দকৃত অর্থ এনজিও সমূহের মাধ্যমেই রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন "উন্নয়নমূলক" (!?) প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য দেওয়া হবে। আ*র*সার কারণে এনজিও সমূহের কার্যক্রম নিরাপদে পরিচালনা করাও বাঁধার সম্মুখীন হতো বলেই আ*র*সার মু*জা*হি*দ কমান্ডার আবু আম্মার জুনুনি হাফিজাহুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইতোমধ্যেই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান হিসেবে ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিতে রাজী হয়েছে। অর্থাৎ রাখাইন রাজ্যে ওয়াশিংটনের Plan-A বেশ সফলতার সাথেই এগিয়ে চলেছে।
একই সাথে Plan-B বাস্তবায়নেও ওয়াশিংটন আটঘাট বেঁধে নেমে পড়েছে। কদিন আগেই, খবর পাওয়া গেলো, নিজেদের পিতৃভুমিতে ফিরতে মায়ানমারের গভীর জঙ্গলে সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। আবার, র্যাব-১৫ হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণে আরাকান আর্মির পোশাক জব্দ করেছে কক্সবাজারে। বুঝতে আর বাকি থাকে না, রাখাইন রাজ্যে একটা বাফার জোন তৈরি করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রক্সি বাহিনী হিসেবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশকে আরাকান আর্মির ছদ্মবেশে রাখাইন রাজ্যে পাঠাচ্ছে যুদ্ধের জন্য। এই কাজে শরণার্থী শিবিরে ঘাপটি মেরে থাকা এনজিও সমূহের সাহায্য নিচ্ছে ওয়াশিংটন, যেমনটা পাহাড়ি অঞ্চলে মিশনারী কার্যক্রমের আড়ালে নিজের সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র বিস্তারে করে। স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, গত ২৪ মার্চ হঠাৎ করেই মার্কিন আর্মির প্যাসিফিক রিজিয়নের ডেপুটি চিফ লেফটেনেন্ট জেনারেল জোয়েল বি ভাওয়েল এসেছিলেন। বাকিটা আশা করি আপনারাই মিলিয়ে নিতে পারবেন।
রাখাইন রাজ্যে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের ব্যাপারটা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার আগেই জানিয়েছিলেন। কারণটা জানেন?
চীনের জন্য মিয়ানমারের রাখাইনের চকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের String of Pearls রুটের অংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে জ্বালানি আমদানিতে সমস্যার সমাধানে এই বন্দর চীনকে সহায়তা করেছে। এখানে চীন একটি শিল্পাঞ্চল তৈরি করছে এবং রাখাইন রাজ্যের থা-শোয়ে গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি চীনের দক্ষিণাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও রাখাইন রাজ্যের ইরাবতী নদীতে চীন একটি বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও নির্মাণ করেছে।
চীনের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোল্ড ওয়ার চলমান। আর এজন্যই রাখাইন রাজ্যে অবস্থিত চীনের স্বার্থ সংক্রান্ত সকল প্রকল্প ভেস্তে দিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি এই বঙ্গীয় মুসলিমদের উম্মাহবোধকে পুঁজি করে প্রতারণা করতে রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকেই নিজেদের প্রক্সি বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে রাখাইন রাজ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একটি বাফার জোন তৈরি করতে চায় ওয়াশিংটন Plan-B হিসেবে। ইরাক যুদ্ধেও কুর্দি গোষ্ঠীকে নিজের প্রক্সি বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করেছিল ওয়াশিংটন নর্দান ইরাক দখল করতে।
বড় ধরণের এক প্রতারণার শিকার হতে যাচ্ছে উম্মাহ.....
লেখক
আবু উসামা

