শত্রু-মিত্র ২৫ মার্চ ২০২৫ ⏱ ৩ মিনিট পড়া

নারী স্বাধীনতা: কার লাভ কার ক্ষতি

প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
নারী স্বাধীনতা: কার লাভ কার ক্ষতি


জার্মেইন গ্রিয়ার বিশ্বখ্যাত নারীবাদী লেখিকা। তিনি ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে Tha Whole Women গ্রন্থটি প্রকাশ করেন, যা ছিল তিন দশক আগে প্রকাশিত তার কুখ্যাত বই Tha Female Enunch-এর সিকুয়েল। Tha Whole Women গ্রন্থে গ্রিয়ার নারীবাদ আন্দোলনকে মৌলিকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে, এমন কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছেন।তিনি নারী আন্দোলনের কিছু দিককে 'মরীচিকা' সম্মোধন করে  এর সমালোচনাও করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, লিঙ্গবিপ্লবের হাত ধরে যে যৌন স্বাধীনতা এসেছে,  তা পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন,  'নারী আন্দোলনের কারণে নারীরা স্বাধীন হওয়ায় প্রকৃতপক্ষে পুরুষই এর সুবিধা ভোগ করেছে।[১]

.

নারীরা যত দিন পরিবারের নিরাপদ পরিবেশে ছিল, ততদিন কেউ তাদের ইচ্ছা মতো ভোগ করতে পারেনি। কিন্তু নারীরা 'স্বাধীন' হয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসেছে।  ফলে পুরুষেরা নারীদের আরও যৌনস্বাধীনতা কামনার জন্য উৎসাহিত করেছে, যেন নারীদের যথেচ্ছা ভোগ করা যায়। 

.

নারীদের গর্ভাবস্থার বিশাল চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, অন্যদিকে পুরুষেরা স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছে। যৌনস্বাধীনতার আরেক টি পরিণতি হলো, বিয়ে বিচ্ছেদের হার এবং একক পিতা-মাতার উত্থান। আগে শিশু বাবা-মা উভয়কেই কাছে পেত; কিন্তু এখন বিয়েবিচ্ছেদের হার বাড়ায় শিশুকে বাবা অথবা মা যেকোন একজনের সঙ্গে বেড়ে উঠতে হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদেরই এই ভার বহন করতে হয়। সেক্ষেত্রে সন্তান পিতার অনুপস্থিতিতে বড় হয়। গ্রিয়ার বলেন,  ' ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ১২ টি ব্রিটিশ পরিবারের একটি ছিল একক পিতা বা মাতার; ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে যা হয় ৭ টির একটি এবং ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে দাঁড়ায় পাঁচটির একটিতে।[২]


.

যৌনবিপ্লবের আরেক পরিণতি হচ্ছে নারীদের একাকিত্বের যন্ত্রণায় ভোগা, যারা পুরুষের তুলনায় এই সমস্যায় বেশি ভোগে।[৩]


.

একক প্যারেন্টিং নারীদের ওপর একটা বোঝা তৈরি করেছে, যা 'নারী-মুক্তির' যুগে নিপীড়নের সবচেয়ে নৃশংস রূপগুলোর একটা। দাম্পত্যজীবনে কষ্ট ও পরীক্ষা থাকবেই। জীবন কখনো দুঃখ-কষ্ট আর সমস্যা মুক্ত হবেনা। তবে বিয়ে বিচ্ছেদ অধিকাংশ ক্ষেতেই সাংসারিক সমস্যার কার্যকরী সমাধান নয়। আমেরিকার উগ্র নারীদের কড়া বিরোধী ফিলিস স্কাপলি (Phyllis Schlafly) তার সহকর্মী মহিলাদের নিম্নোক্ত পরামর্শ দিয়ে বলেছেন,  ‘আপনি স্বামীর দাসত্ব সম্পর্কে অভিযোগ করার আগে ভাববেন,বসের দাসত্ব তো আরও অসহনীয়। পৃথিবীতে প্রত্যেকেরই কোনো-না কোন বস আছে। ফোরম্যান, সুপারভাইজার বা অফিস ম্যানেজারের চেয়ে স্বামীর সঙ্গে সাচ্ছন্দ্যময় কাজের সম্পর্ক অর্জন করা বেশির ভাগ নারীর পক্ষে সহজ।[৪]


তথ্যসূত্র :


1.Greer, Tha Whole Women:10.


2.Greer, Tha Whole Women:213.


3.Greer, Tha Whole Women:261.


4.Schlafly, feminist Fantasies.


নারী ও হিজাব

শেয়ার করুন
Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn
QR কোড স্ক্যান করে পড়ুন
বিভাগ: শত্রু-মিত্র © ২০২৬ পর্যবেক্ষণ

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

↑