ইসলাম ও মুসলিম ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ⏱ ৩ মিনিট পড়া

অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ: দাসত্বের চক্র

প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ: দাসত্বের চক্র


অস্ত্র রাখার অধিকার: ইতিহাস, মনোবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও বর্তমান বাস্তবতা

পৃথিবীর ইতিহাসে কিছু সত্য আছে যেটা দাস মানসিকতার মানুষের জানে না—যখন কোনো ঔপনিবেশিক শক্তি কোনো জাতিকে দখল করেছে, তাদের প্রথম পদক্ষেপ ছিল সেই জাতির জনগণের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া। কারণ তারা জানতো, অস্ত্রবিহীন জনগণ সহজেই দাসে পরিণত হয়।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর থেকেই ব্রিটিশরা ভারতীয়দের হাতে অস্ত্র থাকা বিপজ্জনক মনে করতে শুরু করে। ১৮৭৮ সালের Indian Arms Act দ্বারা ভারতীয়দের (বিশেষ করে কৃষক, সাধারণ মানুষ, বিপ্লবী) অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়। ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীরা মুক্তভাবে অস্ত্র রাখতে থাকলেও ভারতীয়দের জন্য লাইসেন্স ছাড়া একটি ছোট বন্দুকও রাখা অপরাধ হয়ে যায়। বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলনের সময় ১৯৩০–৩২ সালে আবার কঠোর আইন আনা হয়। পুলিশের হাতে ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, এমনকি কেবল অস্ত্র থাকার অভিযোগেই মৃত্যুদণ্ডের বিধান তৈরি হয়। অস্ত্র নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ব্রিটিশরা শুধু সামরিক ক্ষমতা দমন করেনি, জনগণের মনোবলও ভেঙে দিয়েছে।

অস্ত্রসজ্জিত সমাজগুলোতে অপরাধের হার কমে যায়, কারণ অপরাধীর মনে থাকে ভয়।

ইসলামে অস্ত্র রাখা শুধু অনুমোদিত নয়, বরং আত্মরক্ষা ও উম্মাহর সুরক্ষার জন্য সুন্নত এবং কখনো কখনো ফরজ। হাদিসে আছে, নবী করিম (সাঃ)-এর ঘরে তলোয়ার সর্বদা ঝুলানো থাকত। সাহাবীগণের ঘরে সবসময় অস্ত্র থাকত। নবীজি বলেছেন: “তোমরা তোমাদের ঘর ও ঘোড়াকে অস্ত্রবিহীন রেখো না।” (আবু দাউদ) আরেক হাদিসে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি ধনুক-বাণ চালাতে শিখলো, তারপর তা ভুলে গেল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম)

বাংলাদেশে রাষ্ট্র তার জনগণকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। পুলিশ দুর্নীতিবাজ, ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। আইন কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ, বাস্তবে ক্ষমতাবানদের জন্য প্রযোজ্য। আদালত অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ। এমন অবস্থায় জনগণের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র রাখা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

বাস্তব হলো, খুন এখনো হয়—বটি, চাপাতি, লাঠি, বিষ দিয়েই খুন হয়। সন্ত্রাসীরা আইন মানে না, তাদের হাতে সবসময় অস্ত্র থাকে। তাহলে সাধারণ মানুষ নিরস্ত্র থাকলে কীভাবে নিরাপদ থাকবে? যদি বৈধভাবে সবার হাতে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র থাকে, শুরুতে কিছু অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই এটি সামাজিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তখন চোর-ডাকাত, ছিনতাইকারী, ধর্ষক, দুর্নীতিবাজ নেতা—সবাই ভয়ে থাকবে, কারণ জানবে সাধারণ মানুষ দুর্বল নয়।

অস্ত্রহীন জনগণ মানে দাস জাতি।
অস্ত্রসজ্জিত জনগণ মানে স্বাধীন জাতি।

অস্ত্র রাখার অধিকার কোনো বিলাসিতা নয়। এটি মানুষের জন্মগত অধিকার, আর মুসলমানদের জন্য এটি সুন্নত ও দ্বীনি দায়িত্বও বটে।

লেখক: নাহিয়ান আল রহমান ওলি

শেয়ার করুন
Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn
QR কোড স্ক্যান করে পড়ুন
বিভাগ: ইসলাম ও মুসলিম © ২০২৬ পর্যবেক্ষণ

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

একই বিভাগের অন্যান্য লেখা

লিবারেল মুখোশের আড়ালে জামায়াত: কেন ভয়টা থেকেই যায়
ইসলাম ও মুসলিম

লিবারেল মুখোশের আড়ালে জামায়াত: কেন ভয়টা থেকেই যায়

??ামায়াতকে আমি ভয় পাই—এই কথাটা কখনও ভয়ে বলি না। ভয়টা হলো, জামায়াত যত ক্ষমতাবান হবে, তত বেশি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এবং এই…

পর্যবেক্ষণ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
যে সাফাই জামায়াতকে বাঁচায়, কিন্তু ইসলাহকে মেরে ফেলে
ইসলাম ও মুসলিম

যে সাফাই জামায়াতকে বাঁচায়, কিন্তু ইসলাহকে মেরে ফেলে

??ই মুহূর্তে জামায়াতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ভেতর থেকে গড়ে ওঠা কিংবা বাইরে থেকে যাওয়া একদল প্রজ্ঞাবান, ন্যায়নিষ্ঠ ও আদর্শে অবিচল উলামা…

পর্যবেক্ষণ ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
কৌশলের নামে গণতন্ত্রের ফাঁদে ইসলামপন্থীরা
ইসলাম ও মুসলিম

কৌশলের নামে গণতন্ত্রের ফাঁদে ইসলামপন্থীরা

??ুয়াড়িদের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত আছে: “The house always wins।” শেষ পর্যন্ত ক্যাসিনোই (জুয়াঘর) জিতবে। কিন্তু এই প্রচলন এবং আরও অনেক…

পর্যবেক্ষণ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
↑