রাজনীতি ২০ আগস্ট ২০২৫ ⏱ ৩ মিনিট পড়া

একজন মাকে নিয়ে মিথ্যাচার ও কিছু কথা...

প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
একজন মাকে নিয়ে মিথ্যাচার ও কিছু কথা...


সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ছবির মহিলাকে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের মা বলে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে ছবির সেই নারী সাংবাদিকের মা নন। তিনি মরিয়ম ওয়াহিদ—একজন ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার ও ফটোগ্রাফি কনসালট্যান্ট।

আমাদের একটুখানি অসতর্কতা বা ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, এ ঘটনাই তার প্রমাণ। একজন নিরপরাধ, নিষ্পাপ মাকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার কেবল যে অন্যায়, তা-ই নয়; এটি নৈতিকতাহীন কাজও বটে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধের রেশ গিয়ে বাবা-মায়ের মতো শ্রদ্ধার আসনে থাকা মানুষদের ঘিরে মিথ্যায় পরিণত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই মিথ্যাচারের মাধ্যমে শুধু একটি পরিবার নয়, সমাজের একটি শ্রেণিকেও হেয়প্রতিপন্ন করা হলো। নিজের দোষ ঢাকতে গিয়ে এক নারীকে “বেশ্যা” বানিয়ে দেওয়া হলো। অথচ তিনি শুধু মা নন, তারও আগে একজন মুসলিম নারী। ইসলামে এ ধরনের অপবাদের ব্যাপারে ভয়ঙ্কর শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেছেন—
“যারা সতী-সাধ্বী নারীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, অথচ চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারে না, তাদেরকে আশি বেত্রাঘাত কর এবং কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর তারাই ফাসিক।”
(সূরা আন-নূর, আয়াত ৪)

শরয়ী শাস্তি (ফিকহ অনুযায়ী)

  • ৮০ বেত্রাঘাত – চারজন সাক্ষী হাজির করতে না পারলে অপবাদদাতার জন্য শরীয়াহ অনুযায়ী নির্ধারিত শাস্তি।

  • সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য – আজীবনের জন্য আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়।

  • ফাসিক গণ্য হওয়া – সমাজে নৈতিকভাবে অযোগ্য (ফাসিক) হিসেবে পরিচিত হয়।

এখানে মনে রাখা দরকার—মরিয়ম ওয়াহিদ একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিল্পী। তার কাজ ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, পরিচয়, অভিবাসন, স্মৃতি, নারী-অভিজ্ঞতা ও ঘর-বাড়ি-বেলংগিংয়ের মতো গভীর বিষয়কে কেন্দ্র করে। তিনি কাতার মিউজিয়ামস আয়োজিত তাসউইর ফটোগ্রাফি ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রাম ও আউটরিচ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাজের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে British Journal of Photography, Firecracker, Photoworks, Magenta Foundation-এর মতো প্রতিষ্ঠানে। দ্য গার্ডিয়ান, ফিনান্সিয়াল টাইমস, টেলিগ্রাফসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রকাশনাতেও তিনি কাজ করেছেন।

শুধু তাই নয়, তার ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাড়া ফেলেছে। তিনি বিভিন্ন আর্ট প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন, বিবিসির Great British Photography Challenge-এ অংশ নিয়েছেন এবং ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারির “Hold Still” প্রকল্পেও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাহলে প্রশ্ন হলো—কেন আমরা একজন শিল্পীর ছবি ভুলভাবে ব্যবহার করে মিথ্যা ছড়াব? কেন আমরা বিরোধের নামে নির্দোষ মানুষদের কষ্ট দেব? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচার শুধু ব্যক্তিকে নয়, গোটা সমাজকেই বিভ্রান্ত করে।

সমাজকে কলুষমুক্ত করতে হলে, মিথ্যা নয়—সত্যের চর্চা জরুরি। একইসাথে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা পরিবারে, সমাজে, এমনকি রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও থাকা অত্যাবশ্যক। ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে আমরা যেন কোনো বাবা-মাকে নিয়ে অপপ্রচার না চালাই। কারণ তারা নিষ্পাপ, তাদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

 মূল লেখা  Pricila 

সংযোজন ও সংশোধনে  পর্যবেক্ষণ টিম।


শেয়ার করুন
Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn
QR কোড স্ক্যান করে পড়ুন
বিভাগ: রাজনীতি © ২০২৬ পর্যবেক্ষণ

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

একই বিভাগের অন্যান্য লেখা

এপস্টিন ফাইলের রাজনীতি: সত্যের প্রকাশ নাকি কৌশলগত ফাঁস
রাজনীতি

এপস্টিন ফাইলের রাজনীতি: সত্যের প্রকাশ নাকি কৌশলগত ফাঁস

এপস্টিন ফাইলের রাজনীতি : সত্যের প্রকাশ নাকি কৌশলগত ফাঁস এপস্টিন ফাইল আবার আলোচনায়। বলা হচ্ছে — অবশেষে সত্য বেরিয়ে আসছে। কিন্তু ইতিহাস জানে…

পর্যবেক্ষণ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেওবন্দি ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে জামায়াতি প্রোপাগান্ডা: ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ
রাজনীতি

দেওবন্দি ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে জামায়াতি প্রোপাগান্ডা: ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ

??োবর পচলে সার হয়, কিন্তু জাশি পচলে ল্যাটকা গু হয়। এ যাবৎ যতটা এক্স জাশি দেখলাম, সবাইকেই হাফ শাহবাগি হতে দেখলাম। খোমেনি ইহসান নামের এক্স…

পর্যবেক্ষণ ১৩ অক্টোবর ২০২৫
হোচিমিন রোকন ও কৃষ্ণচূড়া বিতর্ক: বিএনপির নীতিগত অবস্থান কোথায়?
রাজনীতি

হোচিমিন রোকন ও কৃষ্ণচূড়া বিতর্ক: বিএনপির নীতিগত অবস্থান কোথায়?

??িএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে দেখা গেছে হোচিমিন রোকনসহ বেশ কজন যৌনবিকৃতি লালনকারী কিছু লোকের সাথে একটি…

পর্যবেক্ষণ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
↑