ফরহাদ মজহার কী সক্রেটিস সেজেছেন?
হযরত তালাল আসাদ ডিস্কার্সিভ ট্রাডিশন বলতে কি বুঝাইছেন তা আমি জানিনা, এইটা নর আমার
পড়ালেখার জায়গা নাইদার আমার আগ্রহের জায়গা, কিন্তু আমি জানি হযরত ফরহাদ মজহার হলেন সক্রেটিসের ছাল গায়ে চড়ানো একজন ইমপোস্টার। বিশেষ করে যখন তা ইসলাম সম্পর্কিত কোন বিষয় হয়।
ফরহাদ নিজেকে সক্রেটিস মনে করেন কারণ তিনি মনে করেন তিনি সব জানেন এবং তিনিই সঠিক, যদিও আসল সক্রেটিস নিজেকে সক্রেটিস মনে করতেন কারণ তিনি মনে করতেন তিনি তেমন কিছু জানেন না। সুতরাং সব সময় জানার চেষ্টা করতেন এবং বলতেন নিজেকে জানো। সুতরাং বলা যায় ফরহাদ হলেন বাংলা সক্রেটিস আর কি।
বাংলা সক্রেটিসের এই উত্থান বুঝতে হলে আমাদেরকে বাংলা অঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রকৃতি বুঝতে হবে। জ্ঞান সম্পর্কে বাংলাদের হাজার বছরের কিছু নিজস্ব জ্ঞান আছে।
প্রথমত, বাংলারা স্পেশালাইজেশনে বিশ্বাস করে না। বাংলারা মনে করে যে জানে, সে সব কিছু জানে। সেই আদিম কালে ছোট্ট এক গ্রামে আবদ্ধ এক জীবনযাত্রায় একজন পুরোহিত তাদের চিকিৎসা, আইন, মানসিক স্বাস্থ্য, বাণিজ্য থেকে শুরু করে করে সবকিছুতে নিদান দিতো, তারা সেই অভ্যাসে রয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, যেহেতু তারা মনে করে জ্ঞানীকে সব জানতে হবে, সুতরাং কেউ যদি বলে এ বিষয়টা আমি জানিনা তখন তারা তাকে মুর্খ প্রতিপন্ন করে। আমি জানিনা, এই কথা বলা বাংলা অঞ্চলে একটা ক্রাইম।
তৃতীয়ত, বাংলারা ফেইস ভ্যালুতে চুড়ান্ত বিশ্বাসী। সুতরাং কেউ যদি বলে আই ডোন্ট নো অর্থ আমি জানিনা, তখন বাংলারা মনে করে আসলেই সে জানেনা এবং তখন তারা বিজয় মিছিল বের করে দেয়।
এবং চতুর্থত, ফেইস ভ্যালুতে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে তারা সবসময় মোড়ক দেখে আস্থা জ্ঞাপন করে। জীবন যৌবন সব সঁপে দেয়। ভেতরে কি আছে তা কোন ধর্তব্য বিষয় না।
এই চারটি বিষয়ের সমন্বয়ে এবং এসবের সুন্দর প্রয়োগের মাধ্যমে ফরহাদ একজন বাংলা সক্রেটিস হয়ে উঠেছেন। তিনি তার বাংলা-সক্রেটিসপনার জন্য বেছে নিয়েছেন ইসলামকে। এটাও একটা বুদ্ধিমান চয়েজ। তিনি ফার্মেসীতে পড়ালেখা করা একজন মানুষ। যদি তিনি মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে কিংবা আধুনিক বিজ্ঞানের অন্য কোন শাখা নিয়ে এসব সক্রেটিসপনা করতেন তাহলে তার দুর্দশার সীমা থাকতো না। কাপড়চোপর খুলে মাথা মুন্ডন করে গাধার পিঠে উল্টা চড়িয়ে ঘুরানো হতো। কিন্তু ইসলাম সে তো পরশমনি, সকলের সক্রেটিসপনার ফুটবল। সুতরাং বাংলার সক্রেটিস সফল। কিছু আলগা চটক মাখিয়ে জিলাপি বানিয়ে তিনি তার শিষ্যদেরকে খাওয়ান। তিনি ইসলামের মৌলিক ও প্রাসঙ্গিক সব বিষয়ের বাংলা গুরু। দেড় হাজার বছরের সব তাফসীর ভুল। কোরআন শরীফের আসল ব্যাখ্যা নদীয়ার ইসলামে আছে। হাদীসের শাস্ত্রে অনেক সমস্যা, আসল সমাধান বড় বাংলার ইসলামে। ফিকাহের কথা তো বলতে গেলে আপনারা বুঝবেনই না সে অনেক ঝামেলা, চলে আসুন লোকায়ত ইসলামে। ইত্যাদি।
এভাবে বাংলার সক্রেটিস ফরহাদ ইসলামকে নিয়ে খেলেন। তিনি যে ভৈরবী সাধনায় বিশ্বাস করেন ও চর্চা করেন, ইসলামের সাথে সেই ভৈরবী বাউল সাধনা করেন আর কি। ঘটনা হলো ট্রাডিশনাল ইসলামের হুজুররা একদিকে নরম মানুষ, অন্যদিকে তাদের অনেকেই আধুনিক টুলস সম্পর্কে ততটা অবহিত না। সুতরাং কিছূ বাচ্চা হুজুর হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার সুরে মুগ্ধ হয়ে উন্দুরের মতো দৌড়ায়। আর বাকিরা আসল গলদ ধরতে না পারলেও নিজেদের সিক্সথ সেন্স দিয়ে বুঝতে পারে ফরহাদ মজহারের ইসলাম চাল্লুবাজিতে কোথাও কোন ঘাপলা আছে সুতরাং চুপচাপ দুরে থাকে।
এখন কোরআন হাদীস থেকে শুরু করে ইসলামের জ্ঞানকান্ডের মোটামুটি সব বিষয় নিয়ে এইরকম চাল্লুবাজি করতে করতে বাংলার সক্রেটিস এমন একটা জায়গায় হাত দিয়েছেন যেখানে ট্রাডিশনাল হুজুরদের চেয়ে বরং আধুনিক যন্ত্রপাতিতে প্রশিক্ষিত ইসলামবিদদের আনাগোনা বেশি। তরুণ লোকজন। সুতরাং এখন তারা হযরত ফরহাদ মজহারকে উঙ্গাবুঙ্গা করে দিয়েছে। যার ফলে অবস্থা যা হইছে তা সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের সেই বিচারপতির মতো করে বলা যায়, বাংলার সক্রেটিস ফরহাদ গেছে পাগল হইয়া, এখন সে তার শিষ্যদিগকে লেলাইয়া দিতে চায়।
লেখক
আমান আব্দুল্লাহ
