বিএনপি আমলেই জঙ্গি নাটকের সূচনা: অতীত স্মৃতি নতুন করে আলোচনায়
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আলেম-উলামাদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকার জং-ইবাদ ও উগ্রবাদের নামে ব্যাপক অভিযানে গেলেও এর সূচনা হয়েছিল বিএনপির আমলেই—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে সংশ্লিষ্টদের স্মৃতিচারণে।
সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিএনপির শেষবার ক্ষমতায় থাকার সময়ে হিফজখানা ও মক্তবগুলোতে ছিল চরম আতঙ্কের পরিবেশ। সাধারণ আম কাটার ছুরি বা কেচির মতো জিনিসও রাখা যেত না। উস্তাদরা একাধিকবার শিক্ষার্থীদের ট্রাংক পরীক্ষা করতেন এই ভয়ে যে, পুলিশ চেকিং করতে এসে এসব জিনিস ‘জঙ্গি উপকরণ’ বলে বাজেয়াপ্ত করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বাসে বা গণপরিবহনে ব্যাগ নিয়ে উঠলেই সাধারণ যাত্রীরা সন্দেহের চোখে তাকাত—হুজুরদের ব্যাগে যেন বোমা-টোমা না থাকে। এভাবে সামাজিক ও প্রশাসনিক চাপ মিলিয়ে হুজুরদের জীবন হয়ে উঠেছিল দুঃসহ।
যদিও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে উগ্রবাদের নামে অভিযানে নানা ধরন পরিবর্তন করে সেটিকে দীর্ঘায়িত করেছে, তবে বিএনপির আমলের শেষ দিকের সেই ভয়ের পরিবেশ অনেকের কাছে আরও তীব্র মনে হয়েছে।
সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কিছু বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার বক্তব্যে অতীতের ঘটনাপ্রবাহের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। তারেক-সমর্থক আলেমরা হয়তো সেই সময়কার আতঙ্ক ভুলে গেছেন, অথবা না জানার ভান করছেন।
তবে যারা সেই সময়ের অভিজ্ঞতা সরাসরি ভোগ করেছেন, তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—যদি অতীতের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি হয়, তবে বিএনপির অন্ধ সমর্থক হিসেবেই হোক কিংবা না হোক, নিপীড়নের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা সবার জন্যই থেকে যাবে।
