ইসলাম ও মুসলিম ১৭ আগস্ট ২০২৫ ⏱ ৩ মিনিট পড়া

"পবিত্রতার নামে প্রবেশাধিকার নিষেধ? ধর্ম নয়, এটা দখলের পরিকল্পনা!"

প্রকাশক — পর্যবেক্ষণ
"পবিত্রতার নামে প্রবেশাধিকার নিষেধ? ধর্ম নয়, এটা দখলের পরিকল্পনা!"



সীতাকুণ্ড শব্দ ভাঙলে হয় সীতা + কুণ্ড।
সীতা হচ্ছে হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র।
'কুণ্ড' অর্থ ছোট পুকুর।
সীতাকুণ্ড মানে—যেখানে সীতার গোসল করার ছোট পুকুর অবস্থিত।

অর্থাৎ, সীতাকুণ্ড পাহাড়ে সীতা গোসল করতেন—এমন দাবি করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশাল পাহাড়টিকে তাদের তীর্থস্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং সেখানে মুসলমানদের যাতায়াত বন্ধ করতে চান।

শুধু এই একটি পাহাড় নয়, পৌরাণিক চরিত্র সীতাকে নিয়ে আরও অনেক কথা প্রচলিত আছে।
পৌরাণিক গ্রন্থে আছে—রামের স্ত্রী সীতা আত্মহত্যা করার পর তার দেহ ৫১টি টুকরো হয় এবং ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে তা ছড়িয়ে পড়ে।
এই স্থানগুলোকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শক্তিপীঠ বা তীর্থস্থান বলে মনে করেন এবং সেখানে বড় বড় মন্দির নির্মাণ করেন, পুরো এলাকা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তাদের দাবি অনুযায়ী, সীতার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পড়েছে বিভিন্ন স্থানে, যেমনঃ
১. সীতার গলা পড়েছে কাশ্মীরের শ্রীনগরে,
২. বাম হাত পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে,
৩. হৃদপিণ্ড ঝাড়খণ্ডে,
৪. ডান পায়ের নুপুর শ্রীলঙ্কার জাফনায়, যেখানে তৈরি হয়েছে মন্দির,
৫. চোখ পড়েছে পাকিস্তানের করাচিতে,
৬. নাক পড়েছে বরিশালের উজিরপুরে,
৭. ডান হাত পড়েছে চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ পর্বতে, যেখানে চন্দ্রনাথ মন্দির রয়েছে,
৮. স্ত্রীর অঙ্গ পড়েছে আসামের গৌহাটিতে, যেখানে কামাক্ষ্যা মন্দির নির্মিত হয়েছে,
৯. বাম পায়ের হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পড়েছে সিলেটের বাউরভাগ গ্রামে,
১০. কানের দুল পড়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশে,
১১. গলা পড়েছে সিলেটের জৈনপুর গ্রামে,
১২. বাম পায়ের নুপুর পড়েছে বাংলাদেশের বগুড়ার শেরপুরে,
১৩. হাতের তালু পড়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার শ্যামনগরে।

এই প্রতিটি স্থানেই হিন্দু মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে এবং সেখানে বৃহৎ ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে হিন্দুরা কাজ করে যাচ্ছে।

তাহলে, সাদিকুর রহমান খান যেভাবে সীতার গোসল করার স্থানটিকে পুরোপুরি হিন্দুদের জন্য ছেড়ে দিতে চাইছেন, সেই যুক্তিতে বাংলাদেশের আরও বহু স্থান হিন্দুদের জন্য ছেড়ে দিতে হবে এবং মুসলিমদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করতে হবে।

আসলে, অন্যের জায়গা দখল করতে এ ধরনের পৌরাণিক ঘটনা জুড়ে দেওয়াটা হিন্দু ধর্মীয় একটি পুরোনো সংস্কৃতি।
যেমন—

  • বাবরী মসজিদকে বলা হয় রামের জন্মস্থান, তাই মসজিদ ভাঙা হলো।

  • কাশ্মীর দখলের জন্য বলা হয়, অমরনাথ গুহার ভেতর জমে থাকা বরফখণ্ড হলো শিবলিঙ্গ, তাই সেটা কেন্দ্র করে কাশ্মীরে হিন্দুদের আগমন ও দখল বাড়ানো হয়।

মূলত, এগুলো অখণ্ড ভারতের প্রতিষ্ঠার কৌশলের অংশবিশেষ।
সূত্র হচ্ছে— গল্প বানাও, দখল করো।

প্রশ্ন হচ্ছে—
হিন্দুরা এমন অনেক কিছুই দাবি করতে পারে।
কিন্তু সাদিকুর রহমান খানরা যদি সেগুলোকে সত্য বলে প্রচার করে, এবং সেইসব এলাকা থেকে মুসলমানদের বিতাড়নের পক্ষ নেন,
তাহলে সেটা ভয়ঙ্কর।

সে ক্ষেত্রে বুঝতে হবে—সাদিকুর রহমান খানরা আসলে অখণ্ড ভারতেরই লোক।
মুখে মুখে 'দিল্লি না ঢাকা' স্লোগান দিয়ে এতদিন চুপচাপ ছিলেন,
এখন ধীরে ধীরে তাদের আসল চেহারা প্রকাশ পাচ্ছে।

লেখক: নয়ন চ্যাটার্জী


শেয়ার করুন
Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn
QR কোড স্ক্যান করে পড়ুন
বিভাগ: ইসলাম ও মুসলিম © ২০২৬ পর্যবেক্ষণ

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।

একই বিভাগের অন্যান্য লেখা

লিবারেল মুখোশের আড়ালে জামায়াত: কেন ভয়টা থেকেই যায়
ইসলাম ও মুসলিম

লিবারেল মুখোশের আড়ালে জামায়াত: কেন ভয়টা থেকেই যায়

??ামায়াতকে আমি ভয় পাই—এই কথাটা কখনও ভয়ে বলি না। ভয়টা হলো, জামায়াত যত ক্ষমতাবান হবে, তত বেশি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এবং এই…

পর্যবেক্ষণ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
যে সাফাই জামায়াতকে বাঁচায়, কিন্তু ইসলাহকে মেরে ফেলে
ইসলাম ও মুসলিম

যে সাফাই জামায়াতকে বাঁচায়, কিন্তু ইসলাহকে মেরে ফেলে

??ই মুহূর্তে জামায়াতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ভেতর থেকে গড়ে ওঠা কিংবা বাইরে থেকে যাওয়া একদল প্রজ্ঞাবান, ন্যায়নিষ্ঠ ও আদর্শে অবিচল উলামা…

পর্যবেক্ষণ ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
কৌশলের নামে গণতন্ত্রের ফাঁদে ইসলামপন্থীরা
ইসলাম ও মুসলিম

কৌশলের নামে গণতন্ত্রের ফাঁদে ইসলামপন্থীরা

??ুয়াড়িদের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত আছে: “The house always wins।” শেষ পর্যন্ত ক্যাসিনোই (জুয়াঘর) জিতবে। কিন্তু এই প্রচলন এবং আরও অনেক…

পর্যবেক্ষণ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
↑