আরসা কী মিয়ানমার জান্তা সরকারের পক্ষে নাকি না?
উত্তর হচ্ছে যে, আরসা'র তো জন্মই হয়েছে যে, মিয়ানমারের অত্যাচারি জান্তা সরাকারে বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের জন্য। কিন্তু তবুও আমি কেনো বললাম, আরসা রিসেন্ট যুদ্ধে জান্তা সরকারকে সমর্থন দিয়েছে?
ইস্যুটা হল, আরাকানে কিন্তু রোহিঙ্গা ছাড়াও রাখাইন সম্প্রদায় আছে, যারা মুসলিম না। তাদের মিলিশিয়া বাহিনীর নামই হচ্ছে আরাকান আর্মি। এবং এতদিন এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, তাদেরকে আমরিকা সাপোর্ট দিচ্ছে।
রিসেন্টলি তারা আরাকানে জান্তা সরাকারকে প্রায় পরাজিত করে ফেলেছে। এই যুদ্ধের সময় রোহিঙ্গাদের কিছু বিচ্ছিন্ন শক্তিও জান্তা সরকারকে টার্গেট করতে দেখা গেছে। এমনকি নিজেও জান্তা সরকারের বাহিনী থেকে গনিমতের বিভিন্ন ভিডিও, ছবি দেখেছি।
কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে যখন, আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা দলগুলোর উপর জান্তা সরকারের পক্ষে লড়াই করার অভিযোগ তুলা শুরু করে। তাদের দাবী যে, জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবার লোভ দেখিয়ে, রোহিঙ্গা গেরিলাদের সমর্থন দিচ্ছে, তারাও তাই এই মূহূর্তে জান্তাকে টার্গেট না করে, আরাকান আর্মিকে টার্গেট করছে।
এবং বাস্তবে এটা সত্যিই যে, রোহিঙ্গা গেরিলারা এখন আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। কিন্তু কারণটা কি?
আরাকান আর্মিরা একসময় বলছিল যে, তারা ক্ষমতায় আসলে, রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার দিবে। জান্তা সরকারের মত অন্যায় করবে না। অথচ রোহিঙ্গা গেরিলারা অভিযোগ করছে যে, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের সাথে বাস্তবে জান্তা সরকারের ন্যায়ই আচরণ করে। তারাও রোহিঙ্গাদের রেপ এবং হত্যার সাথে জড়িত। তাই রোহিঙ্গা গেরিলারা এখন আরাকান আর্মির বিরুদ্ধেও লড়ছে।
এখন এই লড়াইয়ে কি জান্তা সরকারের সাথে যোগসাজশ বা কোন বোঝাপাড়া আছে? আমার দৃষ্টিকোণ থেকে - এরকম কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু আরসার সমর্থকরা বলছে যে, না এমন হয় নি। আরসা নিজে বলছে না, তাদের সমর্থকরা বলছে। আবারা তারা এটাও বলছে যে, আরসা এমন করছে না, আরএসও করলেও করতে পারে। কিন্তু আরসা এবং আরএসও কয়দিন আগেই জোটবদ্ধ হল, আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।
ঘটনা যেটাই হোক, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা গেরিলাদের ট্রেইটর হিসেবে দেখছে। এবং তারাই তাদের বাপ আমরিকাকে বলছে এদের সাইজ দিতে। আমরিকান বাপের কথায়ই বাংলাদেশে আরসার হেডকে গ্রেফতার করা হল। আরসার কোন রাজনৈতিক উইং নেই। কিন্তু আরএসও এর আছে। আরএসও এর রাজনৈতিক উইং যেহেতু পশ্চিমে গিয়ে লবিগুলোর কাছে দেন দরবার করে, তাই তারা এনজিওগুলোর প্রতি একটু সহনশীল। কিন্তু আরসা সহনশীল না। তারা এনজিওদেরও টার্গেট করে। এবং আরএসও এর যারা পশ্চিমাদের প্রতি নরম, তাদেরও টার্গেট করে। আরএসও এর মহিবুল্লাহকে তারা এই কারণেই টার্গেট করেছে।
আমরিকা হয়ত আরাকান আর্মিকে এতটুকু বুঝিয়েছে যে, তোমার ক্ষমতা আরাকানে পাকাপোক্ত করো, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নাও। আমরা তোমাদের পিছে তো আছিই। এই কারণেই ইউনুস ঘোষণা দিতে পারলো এত কনফিডেন্টলি যে, আগামী রমজানে রোহিঙ্গারা আরাকানে থাকবে।
এখন রোহিঙ্গারা আরাকানে গেলে আসলে আরসার কোন লাভ নেই। তাদের কে বলি হতে হবে আরাকান আর্মির অধিনে। আর এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠালেও, আবার যখন আরাকান আর্মি নির্যাতন শুরু করবে, আবার রোহিঙ্গাদের ফেরত আসতে হবে। এই সাইকেল চলতেই থাকবে। ইউনুস হয়ত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠিয়ে ফ্লেক্স করতে পারবে, কিন্তু এটা যুতসই সমাধান না। রোহিঙ্গারা যেহেতু মুসলিম, তাদের কোন জনগোষ্ঠিতই মেনে নিবে না - তা হোক মিয়ানমার কিংবা সাম্ভব্য স্বাধীন আরাকান। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অংশটা বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেমন সহজ কোন সমধান নেই। রোহিঙ্গা ফুটবলের মত এদিক সেদিক লাত্থি খেতেই থাকবে।
